ফরিদপুরে চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র আসাদুজ্জামান নূর তুরাগ হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এমনই তথ্য। পুলিশ এ হত্যা মামলায় সহোদরসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান। তিনি জানান, গাজীপুর ও রাজবাড়ী জেলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শহরের অম্বিকাপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে কালা রাজন (২৬), তার ভাই সাজন (২৪) ও পশ্চিম ভাসানচর গ্রামের আব্দুস ছালাম শেখের ছেলে জুয়েল শেখ (৩৮)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে জুয়েলকে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, অপর দুইজনকে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় শাহিন নামে পলাতক আরেক আসামির বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি রামদা উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে, এ মামলার প্রধান আসামি টিপু খাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা যায়, ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন আসাদুজ্জামান নুর তুরাগ। তিনি শহরের আলিপুরের কানাই মাতুব্বরের মোড় এলাকার আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। সাত মাস আগে বিয়ে করেন তুরাগ।
পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মাদকের অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়ে তার পড়াশোনায় ছেদ ঘটে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে তিনি একই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী কানা তুষারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মাদক ব্যবসার প্রভাব বিস্তার ও টাকা লেনদেন নিয়ে কানা তুষারের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে এর আগে তাকে কুপিয়ে জখম করেন তুরাগ। এরপর প্রতিশোধ হিসেবে তুরাগের একটি হাত কেটে নিতে কানা তুষারকে নির্দেশ দেন তার বোন। আর বোনের ইচ্ছে অনুযায়ী তুরাগকে হত্যার পর তার বাম হাত কেটে নেন কানা তুষার। পরে সেই হাত বোনের কাছে নিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে একটি মেহগনি বাগানে ডেকে নিয়ে আসাদুজ্জামান তুরাগকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে আরো দুই তিনজন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সালাউদ্দিন আহমেদ, কোতোয়ালি থানার ওসি এম.এ. জলিলসহ অন্যরা।