ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আখাউড়ায় পিঠা বিক্রির ধুম

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
প্রকাশিত: ১০:০০, ২ ডিসেম্বর ২০২৩
আখাউড়ায় পিঠা বিক্রির ধুম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শীত আসলেই ভোজন রসিকদের চেনা যায় এক নতুন রূপে। এসময় খাবারের তালিকায় যোগ দেয় নানা রকমের পিঠাপুলি। এক কথায় শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। তবে শীতের পিঠাতে রয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্য। 

এই শীতের আমেজ শুরুতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরসহ উপজেলার হাট বাজার অলিগিলিতে বিকেল বেলায় পিঠাপুলির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিশাপটা ও তেল পিঠা। তবে চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও ধনিয়াপাতা ভর্তা দেওয়া হয়। তবে ভোজন রসিকদের কাছে ভাপা ও চিতই পিঠার চাহিদাই বেশি রয়েছে।

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে পিঠা বিক্রি। বিকেল হলেই পিঠাপুলির দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রির ধুম পড়ে যায়।  চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই পৌর শহরের অলিগলি ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে দাঁড়িয়ে বা বসে শীতের পিঠা খেতে দেখা যায় অনেককেই। পিঠার দাম ও রয়েছে নাগালের মধ্যে। তাই পিঠা খেতে এখানে ছুটে আসছেন অনেকেই।

Advertisement

সরেজমিনে পৌর শহরের সড়ক বাজার, খড়মপুর, লালবাজার এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন নারী ও পুরুষরা। চালের গুড়া তৈরি করছেন সুস্বাদু ভাপা পিঠা, চিতইসহ অন্যান্য পিঠা। আর চুলা থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে অপেক্ষমাণ ক্রেতার হাতে। চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও ধনিয়াপাতা ভর্তা দেওয়া হয়।

প্রতিদিন বিকেল থেকে পিঠা বিক্রির ধুম পড়ছে দোকানগুলোতে। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবি, শ্রমিক, দিনমজুর, যানবাহন চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন নিত্যদিন খাচ্ছেন ওইসব পিঠা। এক একটা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দোকানে বসে সেই পিঠা খাচ্ছেন। কেউবা নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য। 

পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় ভাপা পিঠা বিক্রেতা মো. হাসেন মিয়া ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, প্রতি বছর শীতে ভাপা আর চিতই পিঠা বিক্রি করছেন তিনি। নারিকেল, গুড়, ধনিয়া পাতা দিয়ে তৈরি করা হয় ভাপা পিঠা। চিতই পিঠার সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে শুঁটকি ও সরিষার বর্তা।

তিনি আরো বলেন, দৈনিক ১৫ কেজির ওপর চালের গুড়া, ৩ কেজি গুড় ও ৩টা নারিকেল, ১ কেজি কাঁচা মরিচ ও ধনিয়া পাতা দিয়ে মিষ্টি ও ঝাল পিঠা তৈরি করেন। প্রতিটি পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করছেন। দৈনিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার ওপর পিঠা বিক্রি হয়। যাবতীয় খরচ বাদে ৭০০-৮ ০০ টাকা তার আয় হয় তার। 

পিঠা বিক্রেতা নার্গিস আক্তার বেগম জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে চিতই আর ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। নানা বয়সী লোকজন পিঠা ক্রয় করে খাচ্ছেন। তার পিঠার ভালো চাহিদা রয়েছে। বিকেল থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত বিক্রি হয় বলে জানায়। দৈনিক পিঠা বিক্রি করে খরচ বাদে তার ৫০০ টাকার ওপর আয় হয় তার।

আখাউড়ায় পিঠা বিক্রির ধুম

চাকরিজীবী বাদশা মিয়া বলেন, তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর। ওষুধ কোম্পনিতে চাকরির কারণে গত ২ বছর ধরে পরিবার নিয়ে আখাউড়ায় থাকেন। কাজের চাপ থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্বেও গ্রামের বাড়িতে যাওয়া হয় না। তাই এখান থেকে পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে খান তিনি। 

পিঠা খেতে আসা স্থানীয় ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, আগে আমরা বিকালে অন্য কিছু খেতাম। কিন্তু শীত উপলক্ষে পিঠা বিক্রি শুরু করায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় চিতই বা ভাপা পিঠা খাই। আসলে শীতের পিঠার স্বাদই রয়েছে অন্য রকম।  

শিক্ষক আসমা আক্তার জানান, সারাদিন পরিশ্রম করার পর বাড়িতে পিঠা তৈরি করতে ইচ্ছা করে না। তাই সুযোগ হলেই এখান থেকে পিঠা নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে মিশে খাওয়া হয়ে থাকে।  

মো. আশরাফ উদ্দিন  বলেন, আমি প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর ফুটপাতে গড়ে উঠা দোকান থেকে পিঠা খাই। নতুন ধানের পিঠা খেয়ে খুব ভালো লাগে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!