গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় এ উপজেলায় প্রত্যন্ত চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইরি-বোরো ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের। এ কারণে উপজেলার গ্রামাঞ্চল কিংবা পৌরসভার আবাদি ও অনাবাদি জমিতে ব্যাপকহারে ধান চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
এদিকে, স্যালোমেশিন কিংবা পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি দিয়ে ধান রোপণের জন্য জমি উপযোগী করে তুলছেন। অধিকাংশ জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা ও বীজ তলা থেকে ধানের চারা উত্তোলন করে জমিতে রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা।
.png)
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৮ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জিনারী, পুমদি, শাহেদল, গোবিন্দপুর, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে ইরি-বোরো রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তবে জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী, চর হাজিপুর সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর, চর বিশ্বনাথপুর গ্রামে পুরোদমে ধান রোপণ শুরু হয়েছে।
কৃষকরা জানান, এ বছর জমিতে তারা বিনা সেভেন-৮, হাইব্রিড বিধান-৭, ২৮, ২৯, ৪৯, ৫২ বায়ার কোম্পানির ধানী গোল্ড, তেজ ও পেট্রোকেম কোম্পানির পাইওনিয়ার এগ্রো-১২ জাতের ধান রোপণ করছেন। কৃষকরা বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। বিঘাপ্রতি ২০ কেজি ডেপ, ১২ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসাম এবং ৫ থেকে ৭ ভ্যান গোবর সার মিশিয়ে জমিতে পানি দিয়ে কাদা তৈরি করছেন তারা। পরে বীজতলা থেকে চারা এনে সেই জমিতে রোপণ করছেন।
এরই মধ্যে উপজেলায় প্রায় ১০শতাংশ জমিতে চারা রোপণ হয়েছে। বোরো ধান রোপণের শুরু থেকে কাটা ও মাড়াই পর্যন্ত সময় লাগে ৯০ দিন। কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বোরো চাষিদের খরচ হয় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। গেল বোরো মৌসুমে ধানের দাম বেশি পাওয়ায় এবারো দাম ভালো পাওয়ার আশায় আছেন চাষিরা।
উপজেলার ধূলজুরী গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া, চর বিশ্বনাথ গ্রামের রফিক মিয়া, সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, ধানের দাম বাজার অধিক থাকায় বোরো রোপণ করছি অধিকাংশ জমিতে। আরো অনেক জমিতে রোপণ করা বাকি আছে। তারা আরো জানান, বাজারের ধানের দাম বেশি। তাই বোরো ধান চাষ বেশি আবাদ করবেন।
হোসেনপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস এম সাহজাহান কবির জানান, এই চলতি মৌসুমে ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক। তবে এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপণ হতে পারে।