ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হঠাৎ করেই রাতের আঁধারে তৈরি হয় পুকুর!

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
হঠাৎ করেই রাতের আঁধারে তৈরি হয় পুকুর!
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রায় ৬৫ বছর আগের কথা। তখন এক রাতে স্থানীয় লোকজন গভীর ঘুমে মগ্ন। বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে স্থানীয়দের। গভীর রাত হওয়ায় বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেননি তারা। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে চক্ষু চড়ক গাছ এলাকাবাসীর। রাতে যে শব্দ শুনেছিলেন তারা, সকালে সেই শব্দের প্রতিফলন পেয়েছেন স্থানীয়রা। তারা দেখেন আস্ত এক পুকুর তৈরি হয়ে রয়েছে।

এক কান-দুই কান করে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকায়। রাতের আঁধারে তৈরি হওয়া ঐ পুকুর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতে শুরু করেন মানুষজন। গভীর রাতে নিজ থেকে পুকুর তৈরি হয়ে যাওয়াকে অলৌকিক মনে করেন এলাকাবাসী। এজন্য ঐ পুকুরের নাম রাখা হয় ‘খোদাই কুম্বুর’, অর্থাৎ খোদা প্রদত্ত পুকুর। লোকমুখের এই অলৌকিক পুকুরটির অবস্থান ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর কচ্ছপিয়া এলাকায়। এখনো দৃশ্যমান রহস্যময় সেই পুকুরটি।

ঐ এলাকার ৮০ বছর বয়সী মো. হানিফ মুন্সি বলেন, অনেক বছর আগের কথা। এক রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ করেই অদ্ভুত শব্দ শুনতে পাই। রাত হওয়ায় শব্দটিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি কেউ। তবে সকালে উঠে আমরা দেখতে পাই বাড়ির পাশে তৈরি হয়ে রয়েছে একটি পুকুর। এটি আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হয়েছে। এজন্য তখনকার মুরব্বিরা এই পুকুরটির নাম দিয়েছেন ‘খোদাই কুম্বুর’। নিজ থেকে পুকুরটি তৈরি হওয়ার কথা শুনে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষজন দেখতে আসতে শুরু করেন।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তিনি আরো বলেন, পুকুরটি সৃষ্টির পর প্রায় ৫০ বছর ধরে এর পানি শুকাতো না। পানি কমে গেলেও পুকুরটির পানি হাঁটুর নিচে কখনো নামতো না। নানা ভয়ে অনেকে পুকুরে নামতেও ভয় পেতেন। কারণ এর গভীরতা ছিল অনেক। তবে এখন আগের সেই পুকুর নেই। গত ১৫ বছরের মতো সময় ধরে পুকুরটিতে মাছ চাষ হচ্ছে। সেচ দেওয়া হয় পুকুরে। এখন গ্রীষ্মকালে পুকুরটি শুকিয়ে যায়। তবে পানি শুকালেও নাম মোছেনি পুকুরটির। এখনো সবাই এটিকে ‘খোদাই কুম্বুর’ নামেই চেনেন। মূলত; নিজ থেকে তৈরি হওয়ায় এই পুকুরটিকে অলৌকিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এজন্য তখন এর নাম দেওয়া হয় ‘খোদাই কুম্বুর’। এর মানে হচ্ছে; আল্লাহর সৃষ্টি পুকুর।

মাওলানা মোহাম্মদ আলী নামে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম বলেন, আমাদের জন্মের আগের পুকুর এটি। বাবা-দাদাদের কাছে শুনেছি এটি নিজ থেকে তৈরি হয়েছে। এলাকার বয়স্ক মানুষজন এখনো এই পুকুর সৃষ্টির পেছনে অলৌকিকতা রয়েছে বলে মনে করেন। তবে এ ঘটনার সত্য-মিথ্যা মহান সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: পুকুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!