ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুর্লভ বইয়ের পাঠাগার গড়লেন অছিউদ্দীন

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৪৫, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
দুর্লভ বইয়ের পাঠাগার গড়লেন অছিউদ্দীন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীর রায়পুরার আদিবাদ ইউনিয়নের সেরাজনগর নয়াচর গ্রামে ডা. অছিউদ্দীন গড়ে তুলেছেন জাগরণী পাঠাগার। ৫৬ বছরের পুরনো পাঠাগারটিতে বই আছে ২০ হাজারের বেশি। এখানে রয়েছে ৫০ বছরের পত্রিকার কাটিং ও দুর্লভ সংগ্রহ। এ পাঠাগারটি শুরু করেছিলেন নিজ মাতৃভিটায়। সেখানে প্রায় ৫০ বছর ছিল। বর্তমানে তার নিজ প্রতিষ্ঠান উম্মুল কুরা মাদরাসার এক কক্ষে পাঠাগার নিয়ে এসেছেন। 

১৯৪৬ সালে সেরাজনগর নয়াচর গ্রামে মাওলানা ডা. অছিউদ্দীনের জন্ম । তার বাবা হাজি ইলিয়াস মাস্টার ছিলেন শিক্ষক ও বইপ্রেমী মানুষ। আর বইপ্রেমী বাবাকে দেখেই ‘বইপাগল’হয়ে ওঠেন ডা. অছিউদ্দীন।

ডা. অছিউদ্দীন ১৯৬৮ সালে পুরান ঢাকা থাকতেন। সেখানে থাকাকালীন ফুটপাতে দোকানীরা বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসতেন। হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা কিংবা এক টাকায় ঐ দোকানগুলো থেকে বই কিনতেন তিনি।

Advertisement

পরে সহপাঠী ও বন্ধুদের নিয়ে ১৯৬৮ সালে জাগরণী সমিতি নাম দিয়ে পাঠাগার গড়ে তোলেন এবং সবাইকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। পরে ১৯৭০ সালের ২০ আগস্ট পাঠাগারটি পূর্ব পাকিস্তান সরকারের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে রেজিস্ট্রেশন পায়। পরে ২০১১ সালে গণগ্রন্থাগার অধিদফতর থেকে নরসিংদী জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের মাধ্যমে ‘জাগরণী পাঠাগার’ নামে পরিচিতি ও সনদ লাভ করে। এখন বইয়ের পাহাড় গড়েছে ডা. অছিউদ্দীন।

জাগরণী পাঠাগারজাগরণী পাঠাগারে রয়েছে- উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও ইসলামবিষয়ক নানাধর্মীয় বই রয়েছে। সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, কায়কোবাদসহ অনেকের রচনাসমগ্র আছে।

‘তত্ত্ববোধিনী’, ‘প্রবাসী’, ‘শনিবারের চিঠি’, ‘ছোলতান’, ‘মোহাম্মদী’, ‘সওগাত’ ইত্যাদি পত্রিকার কপি ছাড়াও দৈনিক পত্রিকার ফিচার কাটিং আছে প্রায় ৫০ বছরের। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় খোলা থাকে পাঠাগার। পাঠক এলে মুগ্ধ না হয়ে পারেন না।

লন্ডন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও জীবনানন্দ গবেষক উইলিয়াম রাদিচে জাগরণী পাঠাগারে আসেন ১৯৯০ সালে। ২০০৮ সালে এসেছিলেন তৎকালীন নরসিংদী জেলার অ্যাডিশনাল ডিসি বিজয় কান্তি। এ ছাড়াও বহু গুণীজন পাঠাগার পরিদর্শনে এসেছেন। সবই যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছেন।

জাগরণী পাঠাগারশিক্ষকতা, ডাক্তারি, পাঠাগার পরিচালনার পাশাপাশি লেখালেখিও চালিয়ে গেছেন ডা. অছিউদ্দীন। সম্পদনা করেছেন মাসিক পত্রিকা ও সাময়িকী। তার সম্পাদিত বই জাগরণ, অগ্রদূত, লাব্বাইক, নাজাত, নওরোজ-বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে ‘মরমি কবি সাবির জীবনদর্শন’, ‘কোরআন মাজিদের বিষয়ভিত্তিক আয়াত’, ‘আল কোরআনের ভাষায় ইতিহাসের শিক্ষা’, ‘মক্কা-মদিনা ও হজের বিধি-বিধান’, ‘পয়গামে রাসুল’ উল্লেখযোগ্য।

তিনি দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) পড়েছেন কওমি মাদরাসা থেকে। ১৯৭৩-৭৪ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে বিএ পাস করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোয় দেশরক্ষায় কাজ করেছেন। ৬ সন্তানের জনক তিনি। সবাই ইসলাম বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। তবুও প্রতিনিয়ত ভাবেন পাঠাগার নিয়ে কীভাবে এটিকে টিকিয়ে রাখা যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!