ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১ হাজার টাকার জন্য বন্ধুকে হত্যা

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ১৭ মার্চ ২০২৪
১ হাজার টাকার জন্য বন্ধুকে হত্যা
গ্রেফতারকৃত আব্দুস সামাদ ওরফে সম্রাট

পাবনা সদর উপজেলায় রাজমিস্ত্রি আজাদ হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মাত্র এক হাজার টাকার জন্য আজাদকে হত্যা করেন বন্ধু সম্রাট।

রোববার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মাসুদ আলম। এর আগে, শনিবার অভিযুক্ত সম্রাটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

নিহত আজাদ হোসেন উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে। গ্রেফতারকৃত আব্দুস সামাদ ওরফে সম্রাট একই গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে।

Advertisement

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ জানান, গত সোমবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় আজাদ তার মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন বিকেলে পাবনা সদর থানায় জিডি করেন তার বাবা আব্দুল হাকিম। একপর্যায়ে বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় একটি লিচু বাগানে আজাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এরপরই ঘটনার তদন্তে মাঠে নামে সদর থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ একটি দল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আব্দুস সামাদ ওরফে সম্রাটকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজাদকে হত্যার কথা স্বীকার করেন সম্রাট।

জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট পুলিশকে জানান, আজাদ এবং তিনি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। একসঙ্গে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে আজাদের মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে যান এবং দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মোটরসাইকেল মেরামতের জন্য আজাদের দুই হাজার টাকা খরচ হয়। এরমধ্যে এক হাজার টাকা দেন সম্রাট। বাকি এক হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। তখন থেকে আজাদকে কীভাবে হত্যা করা যায় সেই সুযোগ খুঁজতে থাকেন সম্রাট।

গত ১১ মার্চ রাতে আজাদকে কৌশলে একটি লিচু বাগানে নিয়ে যান সম্রাট। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সম্রাট চাকু দিয়ে আজাদের গলায় ও চোখের নিচে আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর গাছের শুকনা লতাপাতা দিয়ে মরদেহ ঢেকে রাখেন। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু পাশের ধানক্ষেতে ফেলে দেন। পরে আজাদের ব্যবহৃত মোবাইল এবং রক্তমাখা জ্যাকেট নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পথে আজাদের মোবাইল ছয়ঘড়িয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দেন।

এছাড়া রক্তমাখা জ্যাকেট এবং মোটরসাইকেলের ডিজিটাল নম্বর প্লেট নিজের ঘরে রেখে মোটরসাইকেল নাটোরের লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামে ফারুক শেখের বাড়িতে রেখে আসেন সম্রাট। সম্রাটের স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে সঙ্গে নিয়ে নিহতের মোবাইল, মোটরসাইকেল, পরিহিত রক্তমাখা জ্যাকেট ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার দায় স্বীকার করে শনিবার (১৬ মার্চ) আদালতে জবানবন্দি দেন সম্রাট। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!