বুধবার সকালে আগানগর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ২০-২৫টি বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। খবর পেয়ে ভৈরব পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ভৈরব থানার ওসি সফিকুল ইসলাম।
স্থানিয়রা জানান, উপজেলার আগানগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার সরুল্লা বাড়ি ও উত্তরপাড়া এলাকার আফিল উদ্দিন মিয়ার বাড়ি ও ব্যাপারি বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে। এছাড়া অত্র এলাকার বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়েও উভয় পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিলো। গেল ২২ এপ্রিল জিল্লুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অতিথি প্যানেলের নাম নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হয়।
.png)
আবার ৭ মে বিকেলে ড্রেজার পাইপ চুরির বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এ সময় উত্তরপাড়ার আফিল উদ্দিন মিয়ার বাড়ি ও ব্যাপারি বাড়ির লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হন।
ঘোষণার পর উভয় পক্ষের লোকজন দা, বল্লম লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এতে দুই পক্ষের ৫০ জন আহত হন। বুধবার সকালে আবারো একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকাল ৭টার দিকে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মমতাজ চেয়ারম্যান পক্ষের লোকজন উত্তরপাড়া ও মধ্যপাড়ায় ২০-২৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। দুইদিনে ২ দফা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সরুল্লা বাড়ির শুক্কুর মিয়া, বাছির মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণপাড়ার ব্যাপারি বাড়ি ও অফিল উদ্দিন মিয়ার বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। গতকাল রাতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে গণসংযোগে গেলে পথিমধ্যে আক্কাস মিয়া তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে তারা স্থানীয় একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান। আজ তারা সকালে আনন্দ বাজারে আওয়ামীলীগ দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ব্যাপারি বাড়ির পক্ষে সাইফুল ইসলাম সুমন বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব ছিলো। গতকাল রাতে এরই রেশ ধরে শুক্কুর মিয়াসহ সারুল্লা বাড়ির লোকজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। আজ আবার সকালে পরিকল্পিতভাবে তারা এসে আনন্দবাজার দখল করেন। বাজারের পাশে আক্কাস মিয়ার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। এদিকে মধ্যপাড়া এলাকায় বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।