ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ইটভাটা গিলে খাচ্ছে আবাদি জমির মাটি

মেহেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫৩, ২৩ মে ২০২৪
ইটভাটা গিলে খাচ্ছে আবাদি জমির মাটি
মাটি কেটে ট্রাক্টরে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

মাটিখেকোদের লোলুপ দৃষ্টি এখন মেহেরপুরের আবাদি জমির দিকে। প্রকাশ্যে মাটি কেটে বিক্রি করছেন তারা। বাধাহীনভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ফলে একদিকে ফসলি জমি কমছে, অন্যদিকে মাটি বহনের ভারী ট্রাক্টরের কারণে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক। প্রশাসনের দাবি, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার গাংনী উপজেলার ধলার মাঠ ও হাড়িয়াদহ গ্রামের কইকুড়ির মাঠসহ বিভিন্ন মাঠের আবাদি জমির মাটি কেটে প্রতিনিয়ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা হচ্ছে এসব মাটি। শ্রমিকরা মাটি কেটে ট্রাক্টরে নিয়ে যাচ্ছেন ভাটায়। বিভিন্ন ইটভাটার চাহিদা পূরণ ও বাড়ি নির্মাণের জন্য এসব মাটি বিক্রি করছে মাটিখেকোদের। ফলে মাটি বহনের ভারী ট্রাক্টরের কারণে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ধলা গ্রামের মাঠে অবৈধভাবে মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রি করছেন উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের খোকন আলী। প্রত্যেকদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রলি মাটি এই ভাটায় বিক্রি করেন তিনি। শুধু তিনিই নন, রয়েছে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী।

Advertisement

মাটি কেটে ট্রাক্টরে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়

উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের কৃষক ফয়জুদ্দীন বলেন, গ্রামের অনেক কৃষক তাদের জমির উপরি ভাগের মাটি বিক্রি করছেন স্বল্প টাকার বিনিময়ে। পাশেই আমার জমি রয়েছে। আমার জমির মাটি ক্রমেই ধসে ঐসব নিচু জমিতে পড়ছে। এভাবে মাটি কাটতে থাকলে ভবিষ্যৎ এসব জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না।

স্থানীয় আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এভাবে প্রতিনিয়ত মাটি কাটা হলে একসময় আবাদি জমি থাকবে না।

গাংনী উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার রাসেল রানা বলেন, পরিদর্শনের পর মাটি বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ আবাদি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা অপরাধ।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা বলেন, মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অনেককেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। এখনো যারা এ ধরনের কাজ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!