ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

মো. এনামুল হক, খাগড়াছ‌ড়ি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৯ জুন ২০২৪
পাহাড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প‌বিত্র ঈদুল আজহা‌কে সাম‌নে রে‌খে পাহাড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। বাজারে বেড়েছে গরু ছাগলের ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার ও স্থানীয়‌ ক্রেতা বিক্রেতায় মুখর খাগড়াছড়ি জেলার প্রতিটি হাটবাজার। অবা‌রিত সবু‌জের দিগন্ত বিস্তৃর্ণ পাহাড় ও সমতল চারণ ভূ‌মির প্রাকৃ‌তিক খা‌দ্যে নির্ভর এখানকার দেশি জাতের মাঝারি এবং ছোট আকৃতির গরুর চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী।

পাহা‌ড়ি এ জেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোট ছোট বেশ কিছু খামারে দেশি-বিদেশি জাতের গরু পালন করা হয়। এছাড়া এখানকার অধিকাংশ দে‌শি জা‌তের গরু, ছাগল প্রাকৃতিক পরিবেশে পাহাড়ের লতাপাতা ঘাস খেয়ে বেড়ে উঠে।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর কোরবানি উপযোগী ১২ হাজার ২৬টি গরু এবং ৪২ হাজার ছাগল রয়েছে। এছাড়াও ২৪টি মহিষ এবং ৪২৫টি ভেড়া কোরবানি উপযোগী রয়েছে।

Advertisement

এ বছর খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলায় ৩৬টি হাট রয়েছে। এসব হাটগুলো থেকে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নেয়া হ‌চ্ছে শত শত গরু, ছাগল। হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

মা‌টিরাঙ্গা পৌরসভার গরুর হাটে গরু কিনতে আসা চট্টগ্রা‌মের ব‌্যাবসায়ী মো. না‌ছির বলেন, হা‌সি‌লের প‌রিমাণ শতকরা ২ শতাংশ নেয়া হ‌চ্ছে যা বেশি মনে হচ্ছে। এছাড়া গরুর দাম স্বাভা‌বিক রয়ে‌ছে। সা‌র্বিক প‌রি‌স্থি‌তি ভা‌লো। কোনো দালাল বা অন‌্য কোনো চাঁদাবাজের প্রভাব নেই।

স্থানীয় খামারি গরু বিক্রেতা আবুল খা‌য়ের জানান, তিনি হাটে ৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে এক‌টি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। ‌কোরবা‌নির আগ মুহূর্তে বাইর থেকে গরু আস‌লে স্থানীয় খামারিরা বিপ‌দে প‌ড়ে যায়। এছাড়া কোরবানির এখনো কিছু সময় বাকি থাকায় ক্রেতারা দরকষাকষি করছেন। সামনের হাটের দিনগুলোতে হয়তো বিক্রি হয়ে যাবে।

মাটিরাঙ্গা বাজারের ইজারাদার আলাউদ্দিন লিটন ও শামসু‌ উ‌দ্দিন আজাদ বাবলু বলেন, মাটিরাঙ্গায় কোরবানির পশু বিক্রি মোটামুটি ভালো। সরকারি সিডিউল থেকে কম হাসিল নিচ্ছি। তাছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা রয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জরহর লাল চাকমা জানান, খাগড়াছড়িতে গত বছর ২৫ হাজারের বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। জেলার কোরবানি চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় পাঠানো যাবে।

এদিকে জাল টাকা শনাক্ত করতে ব্যাংক কর্মকর্তারা কাজ শুরু করেছেন। পাশাপাশি রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করতে হাটে রয়েছে পশু চিকিৎসক।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গরুর হাট কেন্দ্রিক গোয়েন্দা নজরদারিসহ সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল রয়েছে। কন্টোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। হাটে পশু বিক্রি করে বিক্রেতারা যেনো অর্থ নিয়ে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে পুলিশ সে বিষয়ে সজাগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: খাগড়াছড়ি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!