ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:১০, ১০ জুন ২০২৪
মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা 
সোনারগাঁ থানা। ফাইল ফটো

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে রাব্বী নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। 

রোববার রাত ১০টার দিকে মোগরাপাড়া ইউপির বাড়ি মজলিস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

লাশ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিহত রাব্বী ওই এলাকার সানাউল্লাহ বেপারীর বাড়ির ভাড়াটিয়া আক্কাস আলীর ছেলে।

Advertisement

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মহসিন। এ ঘটনায় শাহ আলম নামে আরো একজন আহত হয়েছেন। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউপির বাড়ি মজলিস এলাকা মাদক ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন অপরাধীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত। সেখানে মাদক বিক্রি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। রোববার রাত ১০টার দিকে শাহ আলম নামে পুলিশের সোর্স নিহত রাব্বীকে ডেকে নিয়ে যায় বাড়ি মজলিস এলাকায়। পরে আগে থেকে উঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী অন্তুর নেতৃত্বে মিন্টুসহ ৫-৬ জনের একটি দল রাব্বী ও শাহ আলমের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাব্বীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও শাহ আলমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

নিহতের মা শাহানারা বেগম জানান, পুলিশের সোর্স শাহ আলম তার ছেলে রাব্বীকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের জানানো হয়। হাসপাতালে এসে রাব্বীর লাশ দেখতে পান তারা। তার মায়ের দাবি পরিকল্পিতভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা তার ছেলেকে হত্যা করেছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। 

আহত পুলিশের সোর্স শাহ আলম জানান, নিহত রাব্বী ও সে একে অপরের বন্ধু। রাতে দুজন মিলে বাড়ি মজলিস এলাকায় গেলে র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে নিহত সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয়ের সহযোগী অন্তুর নেতৃত্বে মিন্টুসহ কয়েকজন তাদের কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর রাব্বী মারা যায়। 

একটি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অন্তু ও রাব্বীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত কয়েক বছর ধরে রাব্বী মাদক ব্যবসায়ী অন্তুর সঙ্গে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। মাদক বেচাকেনার সময় ১০ হাজার টাকা বকেয়া করে। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে তালবাহানা করলে আফিয়া সিএনজি পাম্পে তাকে পেয়ে কুপিয়ে আহত করে। এ দ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। 

সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মহসিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!