বিক্রেতারা বলছেন, এ বছর পশু মোটাতাজা করায় অধিক খরচ হলেও গত বছরের চেয়ে একটু বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে পশুর। এরপরও ক্রেতারা দাম শুনে চলে যাচ্ছেন। এতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বিক্রেতারা চড়া দাম হাঁকিয়ে বসে রয়েছেন। তাই সামর্থ অনুযায়ী গরু-ছাগল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা।
লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া, শিয়রবর, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া, পশুর হাটে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পশুর হাটে গরু-ছাগল ও মহিষ বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন বিক্রেতারা।
.png)
বিক্রেতা কালু মিয়া ও মো. সাহিদ সরদার জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর দেশীয় পদ্ধতিতে গরু-ছাগল মোটাতাজা করতে অনেক টাকা খরচ করেছি। তাই কোরবানির হাটে পশুগুলোর দাম একটু বেশি রয়েছে। কিন্তু যদি গরুর দাম দেড় লাখ টাকা চাই তাহলে ক্রেতারা তার দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার আর যদি এক লাখ টাকা চায় তাহলে ক্রেতারা দাম বলেন ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কোনো কোনো ক্রেতা দাম বেশি দিয়ে কিনে নেন। আবার কিছু ক্রেতা দাম শুনে চলে যান।
বিক্রেতারা জানান, বেশি দামে বিক্রি করতে না পারলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
উপজেলার লোহাগড়া হাটে গরু কিনতে আসা উপজেলার ধানাইড় গ্রামের খন্দকার আমিনুর রহমান জানান, হাটে গরু প্রচুর কিন্তু দাম বেশি। তারপরও কোরবানির গরু কিনতেই হবে।
গরু কিনতে আসা আর এক ক্রেতা মরিচ পাশা গ্রামের মো. আজাদ রহমান মোল্যা জানান, ঈদের সময়ে একটু বেশি দাম থাকবেই সেটা আমরাও জানি। তারপরও তুলনামূলকভাবে হাটে দাম কিছুটা বেশি।
এক গরু পালনকারী উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের মো. লিন্টু ঠাকুর বলেন, আমার দুইটি গরু আছে। এখনও বিক্রি করিনি। আশা করছি, প্রতিটি গরু দেড় লাখ টাকা করে বিক্রি হবে। গরু দুইটিকে কোনো ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। ওষুধের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করলে ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে দামও কম হয়।
লোহাগড়া হাটের ইজারাদার সৈয়দ শাহাদৎ হোসেন জানান, সপ্তাহে একদিন বৃহস্পতিবার লোহাগড়া হাট বসে। কোরবানির পশু আসা শুরু করেছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার হাট আরো বড় হবে। হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। ঈদের ৫ থেকে ৭ দিন আগে পশুর হাট জমে উঠে। বাইরের ব্যাপারীরাও আসতে শুরু করেছে। হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের গরু-ছাগল বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চিকিৎসক লেলিন প্রধান জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় স্থায়ী অস্থায়ী ৬টি হাট রয়েছে। কোরবানির পশুর হাটে উপজেলায় ২টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। কেউ অবৈধ উপায়ে মোটাতাজা করা ও অসুস্থ গরু নিয়ে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লোহাগড়া থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করছি, কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ঘটবে না।