চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার স্টেশন রোডে সাহেদ হোসেন ওরফে মনা খুনের ঘটনায় হবিগঞ্জ থেকে চারজনকে গ্রেফতারের পর এমনটি জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত নানা তথ্য তুলে ধরেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে, বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার চৈঠপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
.png)
গ্রেফতারকৃতরা হলেন প্রধান আসামি জুয়েল, সহযোগী বশির, সাগর ও জুয়েল ওরফে ছোট জুয়েল। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মনাকে খুনের পর রাতেই ঢাকা চলে যান জুয়েল, বশির ও সাগর। সেখানে ফকিরাপুল এলাকার এক বাসিন্দার মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। সোমবার ফকিরাপুলে ঐ ব্যক্তির বাসায় অবস্থান করে পরদিন বিকেলে চলে যান হবিগঞ্জ। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত মনা ও হত্যাকারীরা আগে একপক্ষে থাকলেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ে তারা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়। এ বিরোধের জেরেই মূলত মনার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই হামলাকারীরা চট্টগ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকা দিয়ে তারা ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিল।
গত রোববার রাতে স্টেশন রোডের পাখি মার্কেট এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর জুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন মনার বাবা।
মনার বাবার করা মামলায় বলা হয়, একসময় নিউ মার্কেট এলাকার হকার হিসেবে ব্যবসা করতেন মনা। ঐ সময় আসামিদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। কয়েকদিন আগে মনার পূর্ব পরিচিতি এক ছেলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ছিনিয়ে জুয়েল ও রহিম নামে দুজন। বিষয়টি জানার পর মনা জুয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মনার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।
পরে রোববার রাতে পোষা বিড়ালের খাবার কিনতে পাখি গলিতে গেলে মনাকে মারধর করেন জুয়েলসহ অন্যরা। একপর্যায়ে জুয়েল, সাগর, বশির ও শাকিল তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
ঘটনার একদিন পর অভিযান চালিয়ে ফরহাদ ও সজীব নামে দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।
নিহত মনার বাড়ি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার মায়ানি ইউনিয়নের পূর্ব মায়ানি গ্রামে হলেও থাকতেন নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায়। তিনিও পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও দ্রুত বিচার আইনে আটটি মামলা রয়েছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধকর্মের সঙ্গে মনার সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।