বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাড়া বাসায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
আটককৃতরা হলেন- নিহত পপির স্বামী রায়হান পারভেজ (৩২) ও শাশুড়ি আবেদা খাতুন (৫৫)। তাদের বাড়ি খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি গ্রামে। নিহত পপি শংকরপাশা গ্রামের হাবিবুর শিকদারের মেয়ে।
.png)
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে রায়হান পারভেজ শ্যালক সোহাগকে ফোন করে জানান, পপি জ্ঞান হারিয়েছে। খবর পেয়ে সোহাগ ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের উদ্দেশে রওনা হন। কিছুক্ষণ পর খবর আসে পপি মারা গেছেন। মরদেহ নিয়ে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কাশিয়ানীর উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর ২টার দিকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কাশিয়ানীর শংকরপাশায় এসে পৌঁছান। চলে মরদেহ দাফন-কাফনের প্রস্তুতি। সে সময় পপির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। সন্দেহ হলে তারা রায়হান ও তার মা আবেদা খাতুনকে আটক করেন। বুধবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পপির স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পপির মা রিজিয়া বেগম বলেন, দেড় বছর আগে রায়হান ও পপির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। রায়হান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে তারা টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নেয়ার জন্য পপিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পপিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে রায়হান ও তার পরিবারের লোকজন। মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
কাশিয়ানী থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। তবে মামলা ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানায় হবে।
তিনি আরো জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।