উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এসব চিকিৎসকের প্রেষণ বাতিলের জন্য বারবার স্বাস্থ্য অধিদফতরে বলা হলেও কোনো কাজ হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবার ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ হাজারো সংকট রয়েছে। এখানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২১টি। এরমধ্যে শূন্য রয়েছে ১১টি পদ। অথচ প্রতিদিন গড়ে কর্মরত থাকেন ৪-৫ জন। এ অবস্থায় ৮ এপ্রিল জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. ভিকারুননেছা এখানে যোগদান করেন। এরপর থেকে একদিনের জন্যও আসেননি তিনি।
.png)
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি ঢাকার কুর্মিটোলা ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রয়েছেন। এছাড়া ১৬ জানুয়ারি জুনিয়র কনসালটেন্ট (হৃদরোগ) ডা. রাহাতুল কাদির এখানে যোগদান করে প্রেষণে আছেন ঢাকা শের-ই-বাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে।
স্থানীয়রা জানান, তারা নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মফস্বলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য এখানে পদায়ন করা হয়েছে। অথচ তারা প্রেষণে ঢাকায় চলে গেছেন; এটা অনৈতিক। স্বাস্থ্য অধিদফতরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
স্থানীয় রোগী আজাহার আলী জানান, উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে মাঝে মধ্যে কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। আমরা সাধারণ মানুষ কোথায় চিকিৎসার জন্য যাব? এখানে তো আর সরকারি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। আমাদের মতো গ্রামাঞ্চলের রোগীদের রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং চিকিৎসা সেবা নিয়ে দুর্ভোগ।
গিয়াস উদ্দিন নামে একজন জানান, ধুনট উপজেলা থেকে জেলা শহরের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার। উপজেলাবাসীর চিকিৎসার জন্য একমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক না থাকায় আমরা চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। জেলা শহরে এখান থেকে যাওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব হবে না।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই চিকিৎসকেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। কিন্তু তারা প্রেষণে অন্যত্র কাজ করায় ধুনট উপজেলার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। চিকিৎসকদের প্রেষণ বাতিল করে নিজ নিজ পদায়নকৃত জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানান, প্রেষণে চিকিৎসকেরা শহরমুখি হওয়ায় উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসক সংকটে আছে। তারপর প্রেষণে থাকার কারণে আমরাও সমস্যায় আছি। প্রেষণ বাতিলের জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।