অভিযুক্ত মোছা. মছকুরা খাতুন উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের সূর্য্যমুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। এদিকে, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে প্রতিবেদন জমা না দিয়ে কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউপির প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত সূর্য্যমূখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন অভিযুক্ত মছকুরা খাতুন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে স্কুলের গাছ কাটা, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে গণস্বাক্ষর অভিযোগ দাখিল করেন আবু তাহের নামের এক অভিভাবক।
.png)
এতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। চলতি বছর জুন ও জুলাই মাসে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির যোগসাজশে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন গাছ কেটে এর অর্থ আত্মসাৎ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করানো, ক্লাস টিফিন খেতে ও টয়লটে ব্যবহার করতে না দেওয়াসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক মছকুরা খাতুন।
এ ঘটনায় সহকারী শিক্ষা অফিসার শহীদুল বারী খানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। গঠিত কমিটি সরেজমিন তদন্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে প্রতিবেদন জমা না দিয়ে কালক্ষেপণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সাজেদুর রহমান সাজু, আলম, রমজান আলীসহ একাধিক অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করালেও তাদের টয়লেট ব্যবহার করতে দেন না। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পার্শ্ববর্তী জমিতে গিয়ে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বসে খেতে দেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যালয় মাঠে খাওয়ানো হয়। অনেক সময় কুকুর তাদের খাবারে মুখ দেওয়ার মতোও ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দ্রুত বিচার দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মছকুরা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডেইলি বাংলাদেশের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বদলি হয়েছে। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়সারা বক্তব্য দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সহকারী শিক্ষা অফিসার শহিদুল বারী খান। তিনি জানান, এরইমধ্যে ওই শিক্ষকের বদলি হয়েছে। বদলি হলেও তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই কর্মকর্তা।