ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ  

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:২৭, ১২ অক্টোবর ২০২৪
মেঘনায় ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ  
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাটকা সংরক্ষণ ও মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২২ দিন অভয়াশ্রম ঘোষণা করে ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় সব ধরনের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। 

নিষেধাজ্ঞার সময়ে আইন অমান্য করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের ২৫ কেজি করে ভিজিএফ এর চাল বিতরণ করা হবে। 

Advertisement

জেলা মৎস্য অফিস জানায়, জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিবন্ধিত আছে ৪৩ হাজার ৩০০ জেলে। প্রতি বছর এই সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার লক্ষে সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে মেঘনা নদীতে ছুটে আসে। এই সময়কে বিবেচনা করে এ বছরও ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। 

এদিকে মেঘনা পাড়ের অর্ধলক্ষাধিক জেলে জাল-নৌকা তীরে উঠিয়ে নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞাকালীন পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জেলেরা। তাই সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তারও দাবি জানান তারা। 

স্থানীয়রা জেলেরা বলেন, সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আমরা মানব, কিন্তু আমাদের সময় মতো প্রণোদনা দিতে হবে। সঠিক জেলেদের না দিয়ে ভুয়া জেলেদের এসব প্রণোদনা দিতে পারবে না। 

জেলা মৎস কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেন, প্রতি বছরের ন্যয় এবার ২২ দিনের অভায়শ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।  মেঘনার পাড়ের বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন মাছ ঘাটে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়েছে। কোনো জেলে যে নদীতে মাছ শিকারে না যায় সে বিষয়ে সর্তক করা হচ্ছে। এ সময় নিবন্ধিত জেলেরা প্রণোদনা হিসেবে ২৫ কেজি হারে চাল পাবে। পুলিশ কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নিষিদ্ধ সময়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার জানান, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ সময়ে জেলেদের জন্য ২৫ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তবে নগদ কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। এরপরও যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!