ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামীর পুলিশ বন্ধুর সহায়তায় খুন হন আমেনা!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৬, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
স্বামীর পুলিশ বন্ধুর সহায়তায় খুন হন আমেনা!
ছবিতে নিহত আমেনা বেগম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পাহাড় থেকে গৃহবধূ আমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় গ্রেফতার করা যায়নি আমেনার স্বামী ইয়াসিন আরাফাতকে।

গ্রেফতারকৃত দুজন হলেন- চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার হাজী পাড়া এলাকার সুলতান আহমেদের ছেলে জাহেদ নাবেদ ওরফে নাহিদ ও আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলাকার ইরফান হোসেন। তাদের মধ্যে ইরফান পুলিশের কনস্টেবল। তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার গুলশাখালী পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত বলে জানা গেছে।

গত ৩ অক্টোবর আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলাকার চায়না ইকোনমিক জোন কার্যালয়ের পাশে পরিত্যক্ত একটি ইটভাটা থেকে আমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

পুলিশের ভাষ্যমতে, মরদেহের কিছু অংশ শেয়াল বা কুকুর খেয়ে ফেলায় এবং পচে যাওয়ায় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না পরিচয়। এ অবস্থায় পরিচয় শনাক্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

দায়িত্ব পেয়ে একদিন পর পিবিআই জানায়, মরদেহটি ৩৫ বছর বয়সী আমেনা বেগমের। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বলুয়ার দিঘির পাড় এলাকার আবুল কালাম সওদাগর কলোনির কামাল উদ্দিনের মেয়ে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নাগেরকান্দি গ্রামে।

আসামিদের দেওয়া তথ্য ও পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার কিছুদিন আগে আমেনার অগোচরে ইয়াছিন আরেক নারীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জেনে যান আমেনা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। এ কারণে ইয়াছিন তার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাহেদ নাবেদ ও ইরফানকে নিয়ে আমেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সোহেল নামে একজনের প্রাইভেটকার ভাড়া করেন তারা। এরপর বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আমেনাকে প্রাইভেটকারে তুলে ইরফানের বাড়ি আনোয়ারায় নিয়ে যান। সেখান থেকে বৈরাগ এলাকার চায়না ইকোনমিক জোন অফিসের পূর্ব পাশের একটি পাহাড় ঘেরা পরিত্যক্ত ব্রিকফিল্ডে নিয়ে আমেনাকে হত্যা করেন। স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ পাহাড়ে রেখে পুনরায় দুবাই চলে যান ইয়াসিন।

জানা যায়, দুবাইপ্রবাসী ইয়াসিনের সঙ্গে আমেনার এটি দ্বিতীয় বিয়ে। তার আগের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে। এই সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। কিন্তু পুত্রবধূ হিসেবে আমেনাকে মেনে নিতে পারেনি ইয়াসিনের পরিবার। তাই আমেনাকে নগরের বাকলিয়া থানার তক্তারপুল এলাকায় একটি বাসায় রাখতেন ইয়াসিন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের এসআই শাহাদাত হোসেন বলেন, মরদেহটি উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর তদন্ত করে প্রথমে ১৮ অক্টোবর প্রাইভেটকারচালক সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে জাহেদ নাবেদ ও ইরফানকে গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনই আমেনা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া গাড়িচালক সোহেল সাক্ষী হিসেবে আদালতে তার জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!