ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে বাজিমাত

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) 
প্রকাশিত: ১২:২০, ১ ডিসেম্বর ২০২৪
ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে বাজিমাত
ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে বাজিমাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অসময়ে ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছেন মুস্তাকিম সরকার নামে এক কৃষক। এই তরমুজ দেখতে কালো হলেও ভেতরটা টকটকে লাল। আর খেতে অনেক সুস্বাদু হওয়ায় এর বেশ কদর রয়েছে। অসময়ে জমিতেও ফলন ভালো হয়েছে।

উচ্চ ফলনশীল এই ব্ল‍্যাক বেবি জাতের তরমুজ চারা আবাদের মাত্র দুই মাসের মাথায় ফলন আসতে শুরু করে। এরমধ্যে স্থানীয় বাজারে  উৎপাদিত ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। এ পযর্ন্ত ৭০ হাজার টাকার ওপর তরমুজ বিক্রি করেন। আবহাওয়া অনুকূল ও বিক্রিতে দর ভালো পাওয়া গেলে ৪ লাখ টাকার ওপর বিক্রি হবে। তরমুজ চাষে যাবতীয় খরচ বাদে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এ মৌসুমে ২ লাখ টাকার উপর আয় হবে তিনি আশা করছেন।

এদিকে কম খরচে বেশি ফলন ও বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় অনেকেই এ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাই দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ।

Advertisement

কৃষক মো. মুস্তাকিম সরকার উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের  ধাতুরপহেলা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম সরকারের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে মায়ের দোয়া বহুমুখী কৃষি খামার নামে একটি মিশ্র সবজি ও ফলের বাগান গড়ে তুলেন। এরমধ্যে অসময়ের ব্ল্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষ করে তিনি এলাকায় বেশ সারা ফেলেছেন। তার এই সাফল্য দেখে এরই মধ্যে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক লোকজন দেখতে এবং এ সম্পর্কে জানতে ভিড় করছেন। অনেকে দেখতে এসে এ চাষে অনুপ্রাণিত হচ্ছে ।

সরেজমিনে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে মায়ের দোয়া নামে বহুমুখী কৃষি প্রকল্প। এই প্রকল্প বছরজুড়ে নানা প্রকারের সবজি চাষ করলেও পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল ব্ল্যাক বেবি জাতের ছোট বড় অসংখ্য তরমুজ চোখে পড়ছে। চলছে নিয়মিত বাগানের পরিচর্যা। যে দিকে চোখ যাচ্ছে শুধু ব্ল‍্যাক বেবি জাতের অসমের তরমুজ আর চোখে পড়ছে। মাটিতেই বড় হচ্ছে ওইসব তরমুজ। গরু ছাগল ও কিটপতঙ্গ থেকে রক্ষা পেতে বাগানের চারপাশে দেওয়া হয়েছে নেট জালের বেড়া। চলছে নিয়মিত বাগানের পরিচর্যা। কৃষি অফিসের পরামর্শে সঠিক পরিচর্যা করায় তরমুজ চাষ ভালো  ফলন হওয়ায় এখন লাভের স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষক মো. মুস্তাকিম সরকার বলেন, গত ৪ বছর ধরে বিশাল জায়গাতে মৌসুমী শাক-সবজি ও নানা প্রকারের ফল চাষ করে আসছি। এরমধ্যে ৩ বিঘা জমিতে নিজের উৎপাদিত প্রায় ২ হাজার তরমুজের চারা আবাদ করি। চারা আবাদের ২৫ দিনের মাথায় টানা বৃষ্টি ও বন্যায় আমার পুরোজমি পানিতে তলিয়ে চোখের সামনে ভেসে যায় পরিশ্রম ও পুঁজি। কিন্তু তাতেও আমি হাল ছাড়েনি। বন্যার ক্ষত শেষ হওয়ার পর পর পুনরায় জমিতে ১৮শ ব্ল‍্যাক বেবি জাতের গ্রীষ্মকালীন তরমুজের চারা লাগানো হয়। সেইসঙ্গে তরমুজের পাশাপাশি ১০ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা, লাউ ও কচুসহ নানা প্রকারের মিশ্র সবজি চাষ করা হয়।

এরমধ্যে শুধুমাত্র তরমুজ আবাদে ৩ বিঘা জমিতে জমি তৈরি, চারা, আবাদসহ সব মিলিয়ে ১লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। নানা প্রতিকূলতা অপেক্ষা করে জমিতে অসময়ের তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। তরমুজ পরিপক্ক হওয়ায় এরমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, জমিতে এক একটি তরমুজ সাধারণত দুই থেকে তিন কেজির উপর ওজনের হয়েছে। মাঠ থেকে প্রতি কেজি তরমুজ ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ কাজে সার্বিকভাবে নিয়মিত কাজ করছেন সাতজন শ্রমিক। 

তিনি আরো বলেন, ব্ল‍্যাক বেবি তরমুজের সব সময় বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। জমিতে যে ফলন এসেছে আশা করছি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে লাভবান হব।

স্থানীয়রা জানান, ছোট বেলা থেকেই মুস্তাকিম মিশ্র চাষের প্রতি বেশ আগ্রহ ছিল। মিশ্র সবজি ও ফল চাষ করে দ্রুত সময়ে সফলতা পেয়ে জীবনের মোড় ঘুরিয়েছেন। তার এমন সফলতা দেখে বহু বেকার যুবকসহ অনেকে মিশ্র চাষে ঝুঁকছেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম বলেন, বর্তমানে এ উপজেলার কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি উন্নত কৃষি- প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভজনক ফসল চাষে ঝুঁকছেন। কালো তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এ চাষে ঝুঁকছেন। ফলন বৃদ্ধিতে সার্বিকভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। 

তিনি বলেন, এই এলাকার মাটি সবজিসহ ফল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। কৃষক মুস্তাকিম সরকার বছরজুড়ে মিশ্র সবজি ও ফল চাষ করে একজন আদর্শ কৃষকে পরিণত হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে ব্ল‍্যাক বেবি জাতের তরমুজ চাষে তিনি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। সব সময় কৃষকের পাশে আছে থাকবে কৃষি অফিস বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: আখাউড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!