ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আট মাস ধরে অচল ৬টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন

ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪
আট মাস ধরে অচল ৬টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল -ফাইল ছবি

সাতক্ষীরা জেলায় একমাত্র সরকারি খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস করা হয় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ২০১৫ সাল থেকে কিডনি রোগীরা খুব কম খরচে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস করেন। এখানে মাত্র ৪০০ টাকা দিয়ে কিডনি ডায়ালাইসিস করাতে পারেন রোগীরা। যা বেসরকারিভাবে করলে কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

কিন্তু ৮ মাস যাবত সাতক্ষীরার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। যে কয়েকটি সচল রয়েছে তাতে সিরিয়াল পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কিডনি রোগীরা। এতে করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কিডিনি রোগীরা ডায়ালাইসিস করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। তাছাড়া এখানে নেই কোনো কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে ৫৫টি নতুন কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন ও কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান হাসপাতাল পরিচালক।

Advertisement

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, তার বাবা রফিকুল ইসলাম (৬৫) এর কিডনি ডায়ালাইসিস করার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে এসে জানতে পারেন অধিকাংশ ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট। যে কয়টা সচল আছে তাতে সিরিয়াল পেতে এক থেকে দেড় মাস লাগবে। ফলে তার বাবার জরুরিভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস করার জন্য খুলনায় রওনা হন।

শুধু সিরাজুল ইসলাম নয় প্রতিদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসংখ্য কিডনি রোগী ফিরে যাচ্ছেন ডায়ালাইসিস বা চিকিৎসা সেবা করতে না পেরে।

সাতক্ষীরার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার কাজি আরিফ আহমেদ জানান, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতে যেভাবে কিডনি রোগী বাড়ছে সে তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অদ্যবধি কোনো কিডনি বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়া হয়নি। জেলা ও জেলার বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কিডনি রোগীরা নানা বিড়ম্বনায় পড়েন। সাতক্ষীরার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছু রোগী কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা পান। তবে সেটি চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

ডাক্তার কাজি আরিফ আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরিভাবে কিডনি বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করতে হবে। অন্য যে কোনো চিকিৎসার তুলনায় অত্যন্ত ব্যয়বহুল কিডনি রোগের চিকিৎসা খরচ। এ রোগে আক্রান্ত দুস্থ মানুষজন চিকিৎসার খরচ ঠিকমতো জোগাড় করতে পারেন না। সরকারি খরচে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সব নাগরিকের রয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলার ২৩ থেকে ২৪ লাখ মানুষের কিডনি বা অন্যান্য রোগের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র মাধ্যম সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাতক্ষীরা। এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের সংকট যেন লেগেই আছে। বিশেষ করে কিডনি রোগের কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই এখানে। ২০১৫ সালের পর থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস এর কিছু সুবিধা পান কিডনি রোগীরা। কিন্তু এই হাসপাতালের ৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট থাকার কারণে সাধারণ কিডনি রোগীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তিনি দ্রুত নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের পাশাপাশি কিডনি রোগ বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

সাতক্ষীরার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. কুদরত-ই খোদা ৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০১৫ সালের দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাপান ও জার্মান থেকে আমদানি করা ১৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হয়। এসব মেশিনের বয়স ৮ থেকে ৯ বছর পেরিয়ে গেছে। তারপরও কখনো কখনো রিপেয়ারিং করে চালানো হয় কিডনি ডায়ালাইসিসের কাজ। কিন্তু গত ৭-৮ মাস ধরে ৬টি ডায়ালাইসিস মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। এতে করে রোগীরা সময়মতো ডায়ালাইসিস করতে পারছেন না। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন অনেক কিডনি রোগী। তাছাড়া জরুরিভাবে অন্তত একজন কিডনি রোগ বিষেশজ্ঞ চিকিৎসক দরকার।

তিনি বলেন, ৫৫টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সুরাহা হয়নি বলেও জানান তিনি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!