ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জাহাজে ৭ খুন: সেই ইরফান গ্রেফতার

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৩, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
জাহাজে ৭ খুন: সেই ইরফান গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মেঘনায় বহুল আলোচিত সারবোঝাই কার্গো জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলার র‌্যাব-১১ এর পাঠানো এক খুদে বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাব জানায়, আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফানকে বাগেরহাটের চিতলমারী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জাহাজে হামলার শিকার ৮ জনের সঙ্গে ছিলেন ইরফান। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। দুপুর ১২টায় কুমিল্লায় এ ব্যাপারে ব্রিফিং করবে র‌্যাব-১১।

Advertisement

এর আগে, মঙ্গলবার ৭ জনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইমচর থানায় মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলাটি করেছেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ।

হাইমচর থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন সুমন জানান, মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ। চাঁদপুর সদরের হরিণাঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন- জাহাজের মাস্টার ফরিদপুর জোয়াইর উপজেলার মো. গোলাম কিবরিয়া (৬৫), তার ভাগিনা জাহাজের লস্কর শেখ সবুজ (৩৫), জাহাজের সুকানী নড়াইল লোহাগড়ের আমিনুল মুন্সী (৪০),জাহাজের লস্কর মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার মো. মাজেদুল ইসলাম (১৭), একই এলাকার লস্কর সজিবুল ইসলাম (২৬), নড়াইল লোহাগড় এলাকার জাহাজের ইঞ্জিন চালক মো. সালাউদ্দিন মোল্লা (৪০) ও মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর থানার জাহাজের বাবুর্চি রানা (২০)। এছাড়া আহত সুকানী মো. জুয়েল ফরিদপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সেকান্দর প্রকাশ সেকেন্ড খালাসীর ছেলে

মামলার বাদী মাহবুব মুর্শেদ এজহারে উল্লেখ করেন, জুয়েলের গলাকাটা থাকায় সে কথা বলতে পারেনি। ঘটনার বিবরণ দিতে পারেনি। সে সুস্থ হলে ডাকাতদল দেখলে চিনবে বলে ইশারায় জানায়। তবে জুয়েলের সঙ্গে ইরফান নামে আরেকজন ছিল বলে সে লিখে জানায়। তবে তার ঠিকানা দিতে পারেনি। ঘটনার পর ওই জাহাজ একটি রক্তাক্ত চাইনিজ কুঠার, একটি ফোল্ডিং চাকু, দুটি স্মার্ট ফোন, দুটি বাটন ফোন, একটি মানিব্যাগ, নগদ ৮ হাজার টাকা, একটি বাংলা খাতা, একটি সীল, একটি হেডফোন জব্দ করেছে পুলিশ। 

নৌ পুলিশ জানিয়েছে, আহত জুয়েল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোহসীন উদ্দিন জানান, মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের প্রতি পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা ও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীর মাঝিরঘাট এলাকায় নোঙর করা সারবাহী লাইটার জাহাজ ‘এমভি আল-বাখেরা’ থেকে ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। এ সময় তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, ডাকাতির সময় নৌযানটির চালক ও কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!