ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ

ছয় বছর ধরে বন্ধ ছাত্রাবাস, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪
ছয় বছর ধরে বন্ধ ছাত্রাবাস, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
দীর্ঘ সময় ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ থাকায় বিপাকে শিক্ষার্থীরা -ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। সেখানে ছাত্রদের আবাসন ব্যবস্থা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলেজটির দুটি ছাত্রাবাস ছয় বছর ধরে বন্ধ, যে কারণে দূর-দূরান্ত থেকে পড়তে আসা দরিদ্র পরিবারের ছাত্রদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে মেস অথবা বাসা ভাড়া করে থাকতে।

কলেজ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪২ সালে ২৩ দশমিক ৭৯ একর জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা। তখন কলেজটির নাম ছিল দেবেন্দ্র কলেজ। ১৯৪৯ সালে এটি ডিগ্রি কলেজ হিসেবে উন্নীত হয়। ১৯৬৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান, ১৯৬৪ সালে ডিগ্রি বাণিজ্য কোর্স চালু হয়। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে ডিগ্রি বিজ্ঞান কোর্স চালুর ফলে উন্নীত হয় পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি কলেজে। ১৯৭২ সালে বাংলা সম্মান কোর্স শুরু হয় কলেজটিতে। ১৯৮০ সালের ১ মার্চ সরকারিকরণ করা হলে কলেজের নাম হয় ‘সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ’। কলেজটিতে একাদশ, দ্বাদশ, ডিগ্রি পাস কোর্সসহ বর্তমানে ১৭টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৪টি স্নাতকোত্তর বিষয় রয়েছে। কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫ হাজার ৯১১ জন। এরমধ্যে ১২ হাজার ৪৫৪ জন ছাত্র এবং ১৩ হাজার ৪৫৭ জন ছাত্রী।

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ।

Advertisement

কলেজের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মঞ্জুরুল আলম ছাত্রাবাসটি ২০০৯ সালে আগুনে পুড়ে যায় এবং পরে তা অপসারণ করা হয়। ১৯৯১ সালে আলীমুল হক ছাত্রাবাস তৈরি করা হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বহিরাগতদের উৎপাত, মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে ২০১৮ সালে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে শিক্ষার্থীরা এখন অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীমুল হক ছাত্রাবাসের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া এবং ভেতরে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে রয়েছে। মঞ্জুরুল আলম ছাত্রাবাসের পরিত্যক্ত টিনশেড কক্ষগুলোও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘ সময় কলেজের ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের। তবে কলেজের ছাত্রীদের জন্য দুটি সুবিশাল ছাত্রীনিবাস রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা প্রদান করছে।

কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের ছাত্র রফিক হোসেন বলেন, ছাত্রাবাস দুটি বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। হয় ছাত্রদের বাড়ি থেকে যাতায়াত করতে হবে, না হয় শহরে মেসে থাকতে হবে। দুটোই ব্যয়বহুল। যেহেতু ছাত্রাবাস আছে কলেজে, তাই সেগুলো সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করলে আমার মতো ছাত্রদের অনেক উপকার হবে।

কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ফরিদ হাসান বলেন, এমনিতেই বিজ্ঞান বিভাগে অনেক প্রাইভেট পড়তে হয়। সেইসঙ্গে মেস ভাড়া করে থাকা আরো কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সবাই তো আর ছাত্রাবাসে থাকবে না। যাদের আর্থিক সমস্যা বেশি, তারাই এখানে থাকবে। তাই দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা ছাত্রাবাসগুলো চালু করা হোক।

ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল, যেন ছাত্রাবাস সংকট সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়। জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাহুল সরকার বলেন, কলেজে আবাসিক ব্যবস্থা থাকলে দরিদ্র ছাত্ররা অল্প খরচে পড়ালেখা করতে পারত। যা তাদের জন্য একটি বড় সহায়তা হতো। তারা শহরে মেসে থাকার জন্য প্রতিমাসে যে টাকা খরচ করে; সেখানে কলেজের ছাত্রাবাস থাকলে তাদের খরচ অর্ধেক লাগত। এই সংকটের কারণে অনেক ছাত্র কষ্টের মধ্যে পড়েছেন, তাদের দ্রুত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. শহীদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবেশ এখন স্বাভাবিক। ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে আলীমুল হক ছাত্রাবাসটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। মঞ্জুরুল আলম ছাত্রাবাসের জন্য জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য জানানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
ট্যাগ: মানিকগঞ্জ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!