ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গাছ কাটতে গিয়ে ঘটল অলৌকিক ঘটনা, তোলপাড়

লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা
প্রকাশিত: ১২:১৯, ২ জানুয়ারি ২০২৫
গাছ কাটতে গিয়ে ঘটল অলৌকিক ঘটনা, তোলপাড়
গাছের নিচে মানুষের ভিড়

মাগুরা সদর উপজেলার ১৮ খাদা ইউনিয়নের চন্দনপ্রতাপ গ্রামে কয়েকটি গাছ কাটতে গিয়ে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। গাছ কাটতে নিষেধ সংক্রান্ত অলৌকিক শব্দ শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কাঠুরেরা। গাছ কাটার পর তার শেকড় থেকে রক্ত বের হওয়ার খবর পেয়ে এটিকে দৈব সংযোগ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ওই গাছগুলোকে ঘিরে প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষ ভিড় করছেন। গাছের গোড়া পরিষ্কার করে সেখানে পূজারও ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা।

অলৌকিক এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন মানুষ গাছের কাছে এসে সেখানে পূজা দিয়ে সেখানকার ধুলি মাথায় নিচ্ছেন। সরল বিশ্বাসে দেবতার কাছে মানত করছেন মনোবাসনা পূরণের জন্য।

স্থানীয় জয়দেব বসু, নির্মল বিশ্বাস ও উজ্জ্বল বিশ্বাসসহ অনেকেই জানান, চন্দনপ্রতাপ গ্রামের বিপুল সরকার ও তার ভাইদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া স্থানীয় মাঠের মধ্যে একটি ভিটায় বহু বছর ধরে পাশাপাশি কয়েকটি শিমুল গাছ রয়েছে। আগাছায় ঘেরা এই ভিটাটি একটি প্রাচীন দোল ভিটা হিসেবে এলাকার বয়জ্যেষ্ঠদের কাছে পরিচিত। 

Advertisement

কয়েকদিন আগে চৈতন্য সরকার ও বিদ্যুৎ সরকার পার্শ্ববর্তী উত্তম বিশ্বাসের কাছে গাছগুলি বিক্রি করেন। উত্তম বিশ্বাস গাছগুলি কাটানোর জন্য কাঠুরেদের ঠিক করেন। রোববার কাঠুরেরা এসে কুঠার দিয়ে গাছ কাটতে শুরু করলে গাছ কাটতে নিষেধ করে কিছু দৈব শব্দ শুনতে পান তারা। প্রথমে বিষয়টি আমলে না নিয়ে গাছের গোড়ায় কুঠার চালাতে থাকেন তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ বোধ করতে থাকেন কাঠুরেরা এবং একজন কাঠুরিয়াকে উঁচু করে শূন্যে তুলে নিয়ে যায়।

গাছের নিচে চলছে পূজ

মুহূর্তে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মালন্দ, অক্কুরপাড়া, নলদা, বেনিপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত নারী পুরুষ ওই গাছের গোড়ায় ভিড় জমান। উৎসাহীরা জায়গাটি পরিষ্কার করে সেখানে পূজার ব্যবস্থা করেন। ফলে এলাকাটি ধর্মপ্রাণ হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেকেই সরল বিশ্বাস থেকে এই ভিটার ধুলি নিজেদের শরীরে মাখতে শুরু করেন। এতে রোগ মুক্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই জায়গাটিকে একটি আধ্যাত্মিক জায়গায় হিসেবে বিশ্বাস করে ভিড় করতে থাকেন। 

তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের বাইরে গাছগুলি সাধারণ মানুষের ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে দাবি করে এগুলি সংরক্ষণের আশা প্রকাশ করেন মাগুরা পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী অ্যাডভোকেট তুষার কান্তি বিশ্বাস।

তিনি বলেন, গাছ মানুষের পরম বন্ধু। কারণ-অকারণে গাছ কাটা থেকে বিরত থাকতে মানুষকে সচেতন করতে সবাই এগিয়ে আসুক এমনটি আশা করেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক রূপক আইচ বলেন, আমাদের চারপাশে প্রতিদিন যেভাবে গাছ নিধন করা হচ্ছে, তাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখিন। যে কারণে সমগ্র জীবজগতের অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়েছে। ১৮ খাদা ইউনিয়নের চন্দনপ্রতাপ গ্রামে কয়েকটি গাছ কাটতে গিয়ে যে অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। আমি মনে করি এটি প্রকৃতিরই একটা খেলা। গাছ না থাকলে, এই সবুজ না থাকলে, আমরা প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে কখনোই, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারব না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: গাছ মাগুরা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!