ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: মূল আসামিসহ গ্রেফতার ৭

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:০৪, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ-হত্যা: মূল আসামিসহ গ্রেফতার ৭
ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় মূল অভিযুক্তসহ ৭ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত এজাহারনামীয় এই ৭ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ নূরা এবং সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, আহম্মদ আলীর ছেলে ইমরান দেওয়ান এবং মো. এবাদুল্লাহ, আইয়ুব আলী, মো. গাফফার ও হযরত আলী।

মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, কিশোরী হত্যার ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এর মধ্যে ধর্ষণের অভিযোগে চারজনকে এবং সালিসকারী হিসেবে স্থানীয় মেম্বার বিএনপি নেতাসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

Advertisement

নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, মাধবদীর কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মূল আসামি নূরাকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে নরসিংদী পুলিশ। একই সময় ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অপর আসামি হযরত আলীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছে আরো পাঁচজন। এ পর্যন্ত মোট সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হলো।

এর আগে,  মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে পাঁচ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। পরে নরসিংদী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেছকাতুল ইসলাম ১ মার্চ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। পরে তাদের জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরীর মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যাধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যা
নিহত কিশোরীর পরিবার মাধবদীতে ভাড়া থাকে। তাদের স্থায়ী ঠিকানা বরিশালে। ওই কিশোরীর বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূর মোহাম্মদ নূরার নেতৃত্বে ৫-৬ জন তরুণ ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার বিচারের জন্য কিশোরীর পরিবার স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যান।

পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ওই ইউপি সদস্য সুষ্ঠু বিচার না করে উল্টো অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। বিচার না করায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে গত বুধবার রাতে ওই কিশোরীকে তার খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন তার বাবা। পথে নূরার নেতৃত্বে ৬ তরুণ পথ রোধ করে বাবার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার একটি সরিষাখেতে কিশোরীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তার গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!