বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করছে না বরং বিদ্যালয়গুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমেও গভীর প্রভাব ফেলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা যেহেতু অধিকাংশই সিনিয়র সহকারী শিক্ষক তারা নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি পুরো বিদ্যালয়ের পরিচালনাও সামলাচ্ছেন। ফলে, পাঠদান কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষকরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে সঠিক নেতৃত্বের অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘তাদের বাড়তি তেমন কোনো সুবিধা দেওয়া হয় না, অফিসের কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হয়। নেই পর্যাপ্ত সহকারী শিক্ষক। যে কারণে পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অভিভাবক হলো প্রধান শিক্ষক। এ শিক্ষক সংকটের অভাবের কারণে শিক্ষার গুণগত মানও ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে’।
.png)
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রামগড় উপজেলা শিক্ষা অফিসের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪৭টি। এর মধ্যে মাত্র ১৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রয়েছে। চলতি দায়িত্বে রয়েছে ১১টিতে আর প্রধান শিক্ষক পদে কোনো শিক্ষক নেই ১৭টিতে। আর সহকারী শিক্ষকের ৬৫ পদও খালি রয়েছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির রামগড় উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার মানউন্নয়ন ও লক্ষ্য পূরণে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। সরকার যদি দ্রুত শূন্যপদ পূরণের জন্য ব্যবস্থা না নেয়। তবে এর প্রভাব শুধু শিক্ষার গুণগত মানেই কমে যাবে না বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার সঠিক পরিবেশ তৈরি করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
শিক্ষকদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন, তাদের জন্য উপযুক্ত সুবিধা প্রদান এবং বেতন কাঠামোতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) হ্যাপি চাকমা বলেন, ‘প্রতিবছর অবসরজনিত কারণে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হচ্ছে আমরা এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এছাড়া শূন্যপদের বিদ্যালয়গুলোতে বাড়তি নজর রাখা হয়েছে।’