ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যানজটের ভিড়ে এক স্বেচ্ছাসেবী ‘ট্রাফিক’ মোবাশ্বির

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:১২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যানজটের ভিড়ে এক স্বেচ্ছাসেবী ‘ট্রাফিক’ মোবাশ্বির
আখাউড়ায় রাধানগর মোড়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন এক ছাত্রদল নেতা। ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

তীব্র গরম। ব্যস্ত সড়ক। ছোট-বড় যানবাহনের চাপ আর হর্নের শব্দে মুখর চারপাশ। এর মধ্যেই হাতের ইশারায় কখনো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় যানবাহন থামাচ্ছেন, আবার কখনো এগিয়ে গিয়ে পথচারীদের রাস্তা পার হতে সহযোগিতা করছেন। ব্যস্ত সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এমনভাবেই নিরলসভাবে কাজ করতে দেখা গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগর চৌরাস্তা মোড়ে।

তিনি আখাউড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোবাশ্বির আহসান। কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়াই নিজ উদ্যোগে ব্যস্ত এই মোড়ে দাঁড়িয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছেন তিনি। তার এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর শহরের রাধানগর চৌরাস্তা মোড়টি দীর্ঘদিন ধরে যানজটপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচল করে। মোড়ের আশপাশে রয়েছে রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন, ক্লিনিক ও হাসপাতাল রোড। ফলে ব্যস্ত সময়ে এখানে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। এতে পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ, যানজটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন রোগী, শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। অনেক সময় যানবাহনের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতে মোবাশ্বির আহসান নিজ উদ্যোগে সড়কে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাকে এ দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তীব্র গরমও তাকে দমাতে পারেনি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি যানবাহনগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলের নির্দেশ দিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে পথচারীদের নিরাপদে রাস্তা পার হতে সহযোগিতা করছিলেন।

পথচারী মো. আবুল কালাম বলেন, ‘এখানে যানজটের সমস্যা অনেক দিনের। মোবাশ্বির ভাই নিজের উদ্যোগে যেভাবে দাঁড়িয়ে যানবাহন সামলাচ্ছেন, সেটা ভালো লাগছে। তার কারণে রাস্তায় কিছুটা শৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে।’

মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘মোবাশ্বিরকে প্রায়ই এই মোড়ে দাঁড়িয়ে যানবাহন সামলাতে দেখা যায়। গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে তিনি মানুষকে সহযোগিতা করেন। তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’

মোবাশ্বির আহসান বলেন, ‘আমি কোনো দায়িত্ব নিয়ে এখানে এ কাজ করছি না। মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। এ মোড়ে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। যতক্ষণ পারি, নিজের জায়গা থেকে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘তীব্র গরমের মধ্যেও যখন দেখি, আমার একটু সময় দেওয়ার কারণে যানজট কিছুটা কমছে এবং মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছে, তখন ভালো লাগে। এটা কোনো ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য নয়। সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তাহলে শহরের যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।’

স্থানীয়রা জানান, মোবাশ্বিরের মতো আরও কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এলে ব্যস্ত সময়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

ডেইলি-বাংলাদেশ//এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!