ভৈরবে ১০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প ৭ টাকায় বিক্রি, নকলের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১০ টাকা মূল্যমানের রাজস্ব স্ট্যাম্প নিয়ে নকলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটার ও স্টেশনারি দোকানে এসব স্ট্যাম্প বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ১০ টাকার স্ট্যাম্প দোকানিদের কাছে ৭ টাকা দরে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কম দামে স্ট্যাম্প কিনে নির্ধারিত ১০ টাকা মূল্যে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দেখতে আসল স্ট্যাম্পের মতো হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নকল শনাক্ত করা কঠিন। ফলে এসব স্ট্যাম্প দলিল, চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হলে পরবর্তী সময়ে ব্যবহারকারীরা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। পাশাপাশি নকল স্ট্যাম্পের কারণে সরকারও রাজস্ব হারাতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভৈরবের এক কম্পিউটার দোকানি জানান, তারা দুলাল মিয়ার ফটোস্টেট দোকান থেকে ১০ টাকা মূল্যমানের রাজস্ব স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন। প্রতিটি স্ট্যাম্প ৭ টাকা করে কিনে ১০ টাকায় গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন তারা।
.png)
ওই দোকানি বলেন, পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি রাজস্ব স্ট্যাম্প কিনলে ব্যবসায়ীদের কোনো লাভ থাকে না। তাই কম দামে দুলাল মিয়ার কাছ থেকে স্ট্যাম্প সংগ্রহ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে দুলাল মিয়া বলেন, অন্য কোনো ব্যক্তি তাকে এসব স্ট্যাম্প সরবরাহ করেন না। পরিচিত কয়েকজন রিকশাচালকের মাধ্যমে তিনি পোস্ট অফিস থেকে স্ট্যাম্প আনান। অনেক সময় নিজেও পোস্ট অফিস থেকে কিনে আনেন।
পোস্ট অফিস থেকে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ স্ট্যাম্প কেনার ক্ষেত্রে কোনো মেমো বা ক্রয় রসিদ দেওয়া হয় কি না জানতে চাইলে দুলাল মিয়া বলেন, কোনো মেমো দেওয়া হয় না। তবে তার কাছে থাকা স্ট্যাম্পগুলো আসল নাকি নকল, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
তবে পোস্ট অফিস থেকে নকল রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ভৈরব পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তাদের কার্যালয়ে প্রতি মাসে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্প বিক্রি হয়। হেড অফিস থেকে সরাসরি স্ট্যাম্প এনে স্লিপ বা মেমোর মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। ফলে পোস্ট অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প বিক্রির সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে পোস্ট অফিস থেকে নকল স্ট্যাম্প সরবরাহ করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে গণমাধ্যমের কাছে দেখানো ১০ টাকা মূল্যমানের স্ট্যাম্পটি দেখে সেটি আসল বলে মনে হয়নি বলে জানান পোস্ট মাস্টার আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাল উদ্দিন বলেন, জরুরি প্রয়োজনে মানুষ বিভিন্ন দোকান থেকে রাজস্ব স্ট্যাম্প কেনেন। কিন্তু এসব স্ট্যাম্প নকল হতে পারে, বিষয়টি সাধারণ মানুষের ধারণার মধ্যেই থাকে না।
তার ভাষ্য, নকল স্ট্যাম্পের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব হারাতে পারে, তেমনি সাধারণ মানুষও প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই দ্রুত তদন্ত করে নকল স্ট্যাম্পের উৎস ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। শিগগিরই বাজার মনিটরিং করা হবে। পাশাপাশি জালিয়াতি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।