ঢাকা,  সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

হাতিয়ায় মুরগির দোকানকে গুদাম দেখিয়ে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ!

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০২, ২ নভেম্বর ২০২৬
হাতিয়ায় মুরগির দোকানকে গুদাম দেখিয়ে সার ডিলার নিয়োগের অভিযোগ!
হাতিয়ার প্রকল্প বাজারে মিরাজের মুরগির দোকান, যা দেখানো হয়েছে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজ হিসেবে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় মুরগি বিক্রির দোকানকে সার রাখার গুদাম দেখিয়ে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ছারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো সার-বীজের দোকান পাওয়া যায়নি। ডিলারশিপের আবেদনে গুদাম হিসেবে দেখানো দোকানটিতে চলছে পোলট্রি মুরগির ব্যবসা। এ ঘটনায় ডিলারশিপ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও জেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন।

অভিযোগপত্রে জামাল উদ্দিন উল্লেখ করেন, চানন্দী ইউনিয়নের ভুঁইয়া গ্রামের বাসিন্দা ছারোয়ার হোসেন স্থানীয় প্রকল্প বাজারে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের নামে সার ডিলারশিপের অনুমোদন নিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে ওই নামে কোনো গুদাম বা সার বিক্রির দোকান নেই। সার ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতাও তার নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ছারোয়ার হোসেন ইটভাটার মাটি, নদীর বালু ও মাটি কাটার সরদারিসহ বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সার ব্যবসায় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে ডিলার নিয়োগ করায় প্রকৃত সার ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ কারণে তার ডিলারশিপ বাতিল করে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামাল উদ্দিন।

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে চানন্দী ইউনিয়নের প্রকল্প বাজারে গিয়ে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো সার-বীজের দোকান পাওয়া যায়নি। ডিলার নিয়োগের আবেদনে গুদাম হিসেবে উল্লেখ করা দোকানটিতে পোলট্রি মুরগি বিক্রি করতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দোকানটির মালিক মো. মিরাজ।

অভিযোগের বিষয়ে ছারোয়ার হোসেন বলেন, আগে থানারহাটে তার সার-বীজের দোকান ছিল। ওই বাজারটি ভেঙে যাওয়ায় প্রকল্প বাজারে মিরাজের মুরগির দোকানটি ভাড়া নেওয়ার চুক্তি করেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে ওই দোকানের বিষয়ে আপত্তি জানালে মসজিদের পাশে আরেকটি দোকান নেন তিনি।

তবে ছারোয়ার হোসেনের দাবি করা মসজিদের পাশের দোকানেও সরেজমিনে মেসার্স ফারহান এন্টারপ্রাইজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপপরিচালক আশীষ কুমার কর অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/নোয়াখালী/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!