খড়মপুর মাজারের নির্বাচন ঘিরে ভোটের মাঠে মিলনমেলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খড়মপুর মাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভোট দিতে দূরদূরান্ত থেকে এলাকায় ফিরেছেন প্রবাসী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা স্থানীয়রা। ভোটের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে এক মিলনমেলায়।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে মাজার এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কেন্দ্রে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলার কথা রয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী ও সমর্থকদের আনাগোনায় মাজার এলাকা সরগরম। কেউ এসেছেন ভোট দিতে, কেউ প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানাতে। আবার অনেকের কাছে এই নির্বাচন দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিশেষ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
চট্টগ্রামে চাকরিরত ভোটার জুটন খাদেম বলেন, 'সহসা এলাকায় আসা হয় না। তবে এই দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। বিষয়টি খুবই ভালো লাগে।'
মো. হুমায়ুন কবির খাদেম বলেন, 'নির্বাচনে ভোট দিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়িতে এসেছি। এলাকার সবার সঙ্গে দেখা হয়েছে, গল্প করেছি। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছি। খুবই ভালো লাগছে।'
মো. শাহরিয়ার খাদেম বলেন, 'নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় থাকা এলাকার লোকজন এসেছেন। সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঈদেও অনেক সময় এমন মিলনমেলা হয় না। সবাই এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেন। ভোট দিয়ে খুব ভালো লাগছে।'
স্থানীয়দের মতে, খড়মপুর মাজারের সঙ্গে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও সম্পর্ক রয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক নানা আয়োজনে মাজারকে ঘিরে মানুষের সমাগম ঘটে। তাই পরিচালনা কমিটির নির্বাচনও স্থানীয়দের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মাজারের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডে নতুন কমিটির ভূমিকা নিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খড়মপুর গ্রামটি সাতটি পাড়ায় বিভক্ত। প্রতিটি পাড়া থেকে তিনজন করে মোট ২১ জন সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। নির্বাচনে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার প্রায় এক হাজার ১০০ জন।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কফিলউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও নির্বাচন ঘিরে সামাজিক বন্ধন ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাদের আশা, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি এই আয়োজন এলাকার মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।