ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

মোবাইল ব্যাংকিং, সময় বেঁচে বেড়েছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৩৫, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩
মোবাইল ব্যাংকিং, সময় বেঁচে বেড়েছে উৎপাদন
ফাইল ফটো

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বেতন-ভাতা সংগ্রহ করতে হতো কর্মীদের। সে সময় এখন আর নেই। মোবাইল ব্যাংকিয়ের ব্যবহারে এখন সেই ঝামেলা আর পোহাতে হচ্ছে না। পাশাপাশি বাঁচছে কর্মীদের কর্মঘণ্টাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ১০ শ্রমিক-কর্মচারীকে দুই হাজার ৮৮৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। যা আগের বছর ২০২২ সালের অক্টোবরের চেয়ে ১০ লাখ ‍৯১ হাজার ৭৪ জন বেশি। লেনদেন বেড়েছে ২২৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
 

এদিকে শিল্পকারখানা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিল্পকারখানায় বেতন দিতে দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এতে যেমন সময় ব্যয় হয়, উৎপাদনও অনেকাংশে ব্যাহত হয়। অন্যদিকে দিন শেষে অফিস-কারখানা থেকে টাকা বহন করলে বাড়তি সমস্যায়ও পড়তে হয়। 

Advertisement

কারখানা ও শ্রমিক সূত্রগুলো বলেছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হওয়ায় অনেক ঝামেলা দূর হয়েছে। অফিস-কারখানা থেকে বেতন দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে বেতন শ্রমিক-কর্মচারীর হাতে থাকা মোবাইল ফোনে বেতন-ভাতার টাকার বার্তা পৌঁছে যায়।

এসব প্রসঙ্গে পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক এমএ রহিম ফিরোজ বলেন, হাতে হাতে বেতন দিতে প্রায় পুরো দিন চলে যায়। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা কারখানায় পৌঁছতে তিন-চার ঘণ্টা চলে যেতো। একটি গাড়ির পেছনে তিন-চারজন মানুষ লাগতো। এ রকম চারটি কারখানা থাকলে বেতনের টাকা পৌঁছাতে চারগুণ লোকবল ও যানবাহন লাগতো। একই সঙ্গে এতগুলো নগদ টাকা বহন করাও সহজ কাজ নয়।

তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বেতন ভাতা দেওয়া শুরু হওয়ার পর পাঁচ মিনিটে কাজ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীর কোন নম্বরে কত টাকা পাঠাতে হবে, টাকার পরিমাণ উল্লেখ করে কোন মোবাইল ব্যাংকিং অপারেটরে পাঠাবো সেই প্রতিষ্ঠান নাম উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠালেই টাকা চলে যাচ্ছে।

এছাড়া হাতে বেতন দেওয়ার ফলে অনেক সময় ভাংতি টাকা দেওয়ার সমস্যা হতো। টাকা নিয়ে বাসায় পৌঁছাতে শ্রমিকদের সমস্যা হতো। এখন মোবাইল ফোনে টাকা চলে যাচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা তার বেতনের টাকা ইচ্ছা মতো খরচ করছে।  

সাভারের আশুলিয়ার একটি কারখানার শ্রমিক আমিনুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে কাগজপত্র নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে এতো ঝামেলা নেই। এর মাধ্যমে বেতন পাওয়ার ফলে এটিএম কার্ডও ব্যবহার করতে পারি। যেকোনো সময় টাকাও তোলা যায়।

বর্তমানে মার্চেন্ট লেনদেন কার্ড এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পণ্য বা সেবা নিয়ে কার্ডের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যাচ্ছে। যদিও এটিএম কার্ড ব্যবহার করে বাজার সদাই খুব কম শ্রমিকই করেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!