ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ অর্থনীতি ]

পুঁজিবাজারে আতঙ্ক, ঠেকানো যাচ্ছে না পতন 

অর্থনীতি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৩৯, ২৬ এপ্রিল ২০২৪
পুঁজিবাজারে আতঙ্ক, ঠেকানো যাচ্ছে না পতন 
ফাইল ফটো

দেশের পুঁজিবাজারে পতন কোনোভাবেই যেন ঠেকানো যাচ্ছে না। ধারাবাহিক মন্দা পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন নিয়ম করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর ফলে একদিনে কোনো শেয়ারের দর ৩ শতাংশের বেশি কমতে পারবে না। 

পুঁজিবাজার সূত্রে জানা গেছে, সাধারণভাবে কোনো শেয়ারের দর একদিনে ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে বা কমতে পারবে না। এখন দরবৃদ্ধির এই সীমা ঠিক থাকলেও কমার ক্ষেত্রে এ হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। 

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন নিয়ম কার্যকরের পর লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায়ই ১০০ পয়েন্ট হারায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক। শেষ পর্যন্ত আগের দিনের তুলনায় এই সূচক ৬০ পয়েন্ট নিচে নামার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সপ্তাহের লেনদেন।

Advertisement

ডিএসসি সূত্রে জানা গেছে, সারাদিনে লেনদেন হওয়া ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের মধ্যে দাম কমেছে ৩০০টির। বিএসইসির বেঁধে দেওয়া সীমা অনুযায়ী ৩ শতাংশ কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির পরিবর্তে আতঙ্ক বাড়ছে। কৃত্রিমভাবে পতন থামানোর পরিবর্তে বাজারে শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কার্যকর প্রণোদনা দিতে হবে।

এর আগে, কৃত্রিমভাবে বাজার ধরে রাখতে শেয়ারের দরপতনের সর্বনিম্ন সীমা বা ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল বিএসইসি। দীর্ঘ দেড় বছর কার্যকর থাকার পর চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সেটি প্রত্যাহার করা হয়। 

ফ্লোরমুক্ত বাজারের শুরুতে দরপতন দেখা গেলেও কয়েকদিনের মধ্যে সূচকের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শ্রেণি (ক্যাটাগরি) পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। 

অবশ্য বিএসইসির দাবি, একশ্রেণির বিনিয়োগকারী বা চক্র বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখেনি বিনিয়োগকারীরা। 

কয়েকজন বিনিয়োগকারী জানান, কমিশনের নতুন শর্ত কার্যকর হওয়ার দিন শেয়ারের দরপতনের ব্যাপকতা দেখে তারা আতঙ্কিত। নতুন নিয়মের কারণে বাজারে আরো বেশি দরপতন হয়েছে বলে তাদের মত।

তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইস কার্যকর থাকায় অনেকের পুঁজি আটকা পড়ে। ফ্লোরে থাকার কারণে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদরের মূল্য সমন্বয় হয়নি। এখন যখন সমন্বয় হচ্ছে, তখন কমিশন আবার শর্ত আরোপ করে নতুন আতঙ্ক তৈরি করছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে লোকসান দিয়ে শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নিচ্ছেন। ফলে পতনসীমার সিদ্ধান্তে বাজারে আরো বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে শীর্ষ ব্রোকার হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরামের সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, পতনমুখী শেয়ারবাজারে অনেকের মধ্যে ফ্লোর প্রাইস আতঙ্ক কাজ করছে। কমিশন দর কমার ক্ষেত্রে নতুন যে শর্ত দিয়েছে, তার সঙ্গে ফ্লোর প্রাইসের সম্পর্ক নেই। এর মাধ্যমে কমিশন বিক্রির চাপ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তারপরও বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই বড় চাপ ছিল, শেষ পর্যন্ত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সহজে লাভ করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে। কারণ কিছুটা সময় নিয়ে বিনিয়োগ করলে আতঙ্কের কোনো কারণ থাকবে না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!