ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

অভুক্ত পশুপাখিদের দিচ্ছেন খাবার, রাবির শিক্ষার্থীদের মুখে পরিতৃপ্তির হাসি

আশিক ইসলাম, রাবি
প্রকাশিত: ১৬:০৪, ২৭ এপ্রিল ২০২১
অভুক্ত পশুপাখিদের দিচ্ছেন খাবার, রাবির শিক্ষার্থীদের মুখে পরিতৃপ্তির হাসি
ক্যাম্পাসের অভুক্ত কুকুর, বিড়াল এবং পাখিদের খাওয়াচ্ছেন রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থী

গ্রীষ্মের বিকেল। সমস্ত উত্তাপ ছড়িয়ে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে সূর্য। পিচ ঢালা প্যারিস রোডে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন একজন। সাইকেলের পেছনে ছুটছে কয়েকটি কুকুর। উপাচার্য ভবনের সামনে সাইকেল থামাতেই কুকুরগুলো তাকে ঘিরে ধরেছে। কেউ লাফালাফি, কেউ লেজ নাড়াতে নাড়াতে মাথা তুলে উঁকি দিচ্ছে সাইকেলের হ্যান্ডেলে রাখা পাত্রে। সেখানে তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসা হয়েছে। খাবার দেওয়া হলো। তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে কুকুরগুলো। আর পাশে দাঁড়িয়ে মুচকি মুচকি হাসছেন সেই মানুষটা। এ যেনো পরিতৃপ্তির হাসি।

উপাচার্য ভবনের সামনে সাইকেল থামাতেই কুকুরগুলো তাকে ঘিরে ধরেছে

তার নাম প্রসেনজিৎ কুমার। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী। এভাবেই রোদ, বৃষ্টি, ঝড় উপেক্ষা করেই ক্যাম্পাসের অভুক্ত কুকুর, বিড়াল এবং পাখিদের খাওয়াচ্ছেন তিনিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা ‘আয়, আয়’ বলে ডাকতেই দৌড়ে হাজির হয় কুকুরগুলো। কিছু কুকুরের নামও দিয়ে দিয়েছেন তারা। কারো নাম লাইলী, শাবনূর, সালমান শাহ্, সুন্দরী। আবার কারও নাম ফাটাকেষ্ট। তারা খাওয়ানোর প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘ক্যাম্পাস পোষাপ্রাণি সংরক্ষণ প্রকল্প।

কুকুরের সঙ্গে সখ্যতা কয়েকজন শিক্ষার্থীর

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের ঘোষণা দেয়া হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খাবারের দোকান-পাট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্যাম্পাসে থাকা দুই শতাধিক কুকুর-বিড়ালকে না খেয়ে থাকতে হয়। তাই লকডাউন শুরুর পরের দিন ১৫ এপ্রিল থেকে ‘মানুষ তো কোনো না কোনোভাবে খাবার সংগ্রহ করবে, কিন্তু কুকুরতো পারবে না’ এই চিন্তা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার, আইন বিভাগের দিল আফরোজ দোলা এবং মাহবুবুর রেহমান মুন্না, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের ইশতিয়াক মাহমুদ হাসান, একই বিভাগের বিদেশি শিক্ষার্থী তামির হোসনে, ফোকলোর বিভাগের পুনাম প্রিয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে কুকুর-বিড়ালদের খাওয়াতে শুরু করেছেন।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অভুক্ত কুকুর-বিড়ালগুলোকে খাবার দেয়া হচ্ছে

তারা প্রতিদিন বিকেলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অভুক্ত কুকুর-বিড়ালগুলোকে খাবার দিচ্ছেন। দুপুরের পর রাকসু ভবনের সামনে শুরু হয় রান্না। প্রতিদিন ৮-৯ কেজি চাল, ডাল ও মুরগির মাংস মিশিয়ে রান্না করা হয় খিচুরি।

প্রতিদিনই দেয়া হচ্ছে রান্না করা খাবার

প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, গত বছর করোনার দিনগুলোতে প্রায় আটমাস যাবৎ ক্যাম্পাসের কুকুর-বিড়ালদের আমরা রান্না করে খাওয়াইছি। এতে তাদের প্রতি আলাদা একটা মায়া তৈরি হয়ে গেছে। সেই মায়া থেকে এবারও আমরা তাদের রান্না করে খাওয়াচ্ছি। আর তাদের খাওয়ানোর জন্য প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো না কোনো শিক্ষক আমাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে। আমরা সেই টাকা দিয়ে চাল, ডাল, মুরগির মাংসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বাজার করে রান্না করি।

তিনি আরো বলেন, ওদের খাওয়া দেখে একটা আত্ম-তৃপ্তি ও প্রশান্তি ভেতরে ভেতরে কাজ করে। ওদের খাওয়া দেখে আমরা তৃপ্ত হই। এখন অভ্যাসটা এমন হয়েছে যে খাবার না দিলে যেন নিজেদেরই ভালো লাগে না। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!