ক্যাম্পাসের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, বৈশাখী চত্বর, আম বাগান, আম তলা, লিচু বাগান, জব্বার মোড়ের রেল লাইনসহ বিভিন্ন জায়গায় বহিরাগতদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িয়ে পড়ছেন। কেবল অতৈনিক কর্মকাণ্ডই নয় বহিরাগত বখাটেদের দ্বারা শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে হয়রানি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং শিক্ষার্থীসহ মোট নয় হাজার ৮শ জন ক্যাম্পাসে বসবাস করছে। এছাড়া প্রতিদিন যোগ হয় ২ হাজারের অধিক দর্শণার্থী। অন্যদিকে ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে শহর থেকে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার প্রধান সড়ক ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে হওয়ায় দিন-রাত দ্রুত গতিতে চলাচল করে ভারী এবং মাঝারী যানবহন। এই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে বাকৃবি নিরাপত্তা শাখা। কিন্তু বর্তমানে নিরাপত্তা শাখায় মাত্র ১১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছে। যা ১২০০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ঠ নয়। এ কারণেই বিভিন্ন সময় বহিরাগতদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের সাথে ঘটছে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা। একারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা।
.png)
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্ত অনুষদের শিক্ষার্থী ফারহানা জান্নাত ইমু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, নিজের ক্যাম্পাসে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? ৪ জন মেয়ে বোরখা পরা এবং সম্পূর্ণ নেকাব করা অবস্থায় ঘুরতে বের হয় টিএসসি লেক ভিউতে। জায়গাটা ভালো লাগায় তারা নিজেরা ছবি তুলতে শুরু করে। এরপর কিছু বখাটে তাদের উদ্দেশ্য করে সাউন্ড, মেয়েদের ছবি তোলাসহ বিভিন্নভাবে তাদের হ্যারাজ করতে থাকে। ঘটনাটি সন্ধ্যায় হয়। অন্যদিকে আনুমানিক সাড়ে ৬ টার দিকে নেসক্যাফে চত্বর থেকে বের। বের হওয়ার পর দুইটা মেয়ে পিছু নেয় ৫/৬ টা ছেলে। পরে তারা বিভিন্ন ব্যাকসাউন্ড করতে থাকে পেছন থেকে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে দিয়ে পুরোটা রাস্তায় এই হ্যারাজমেন্ট চলতে থাকে।
এছাড়াও গত ২ ডিসেম্বর সাড়ে ৬টায় নেসক্যাফে চত্বর থেকে দুটো মেয়ের পিছু নেয় তিনজন মটরসাইকেল আরোহী। এরপর তারা প্রক্টর অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে এই মেয়েদেরকে বিভিন্নভাবে হ্যারাজ করে এবং বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। মেয়ে দুটো ভয়ে দৌড়ানোর সময় ও তারা তাদের পিছু নেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহিউদ্দীন হাওলাদার বলেন, আমাদের নিরাপত্তাকমী এখন কিছু কম আছে। করোনার কারণে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০ জনকে নতুন নিয়োগের জন্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ হলে আমরা ক্যাম্পসকে আরো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো। আমাদের নতুন একটি টহল গাড়ি দেওয়ার কথা সেটি দিলে আমরা আমাদের কাজের অগ্রগতি আরোও বৃদ্ধি করতে পারবো।