রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকালে চতুর্থ দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রীরা। তাদের তিনদফা দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন থামবে না এমন মন্তব্য করে শক্ত অবস্থান করছে তারা।
আরো পড়ুন: তিন দফা দাবিতে অনড় শাবিপ্রবি ছাত্রীরা
.png)
তাদের দাবিগুলো হলো- দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রভোস্ট কমিটিকে পদত্যাগ করতে হবে, অতিসত্বর একটি ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রভোস্ট কমিটি নিয়োগ করতে হবে, এবং অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা নির্মূল করে সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আন্দোলনরত ছাত্রীরা বলেন, হলের অব্যবস্থাপনা সহ আনুষঙ্গিক সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে হল প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজাকে কল দিলে তিনি আমাদের সমস্যাকে উপেক্ষা করে দুর্ব্যবহার করেন। অনেকদিন ধরে এরকম সমস্যা হওয়ায় আমরা আমাদের দাবি আদায়ে ঐ দিন মধ্যরাতে আন্দোলন শুরু করি। পরে রাত আড়াইটায় উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন থামিয়ে ছাত্রীরা হলে ফিরে আসে।
আরো পড়ুন: বের হয়ে গেলে যাও, আমার ঠেকা পড়েনি: শাবিপ্রবি প্রভোস্ট
এদিকে পরদিন শুক্রবার সকাল ১১ টায় উপাচার্যের কথামতো ছাত্রীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে তাদের তিন দফা দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এর মধ্যে ১০-১২ জন ছাত্রীর একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে সন্তোষজনক জবাব পায় নি। এতে ছাত্রীরা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
পরে বিকাল চারটার দিকে হল প্রভোস্টের রুমসহ প্রভোস্ট কমিটির আরো কয়েকটি রুমে তালা ঝুলিয়ে শনিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টার আলটিমেটাম দেয় ছাত্রীরা। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকাল পাঁচটা থেকে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের যৌক্তিক দাবিতে একাত্মতা পোষণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর অবস্থান করে। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি মেনে না নিলে আন্দোলনে অনড় থাকার হুঁশিয়ারি দেয়।
আরো পড়ুন: মধ্যরাতে শাবিপ্রবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
এদিকে সন্ধ্যার সাতটার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের হামলা শিকার হয়। অভিযোগে ছাত্রীরা বলেন, গোল চত্বরের এদিক দিয়ে প্রথমে একটা অ্যাম্বুলেন্স আসলে আমরা সেটাকে পথ করে দেই। পরবর্তীতে আরেকটা অ্যাম্বুলেন্স আসলে আমরা সেটাকেও পথ করে দেই। এসব অ্যাম্বুলেন্সের পেছন পেছন এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আন্দোলরত ছাত্রীদের মাঝে ঢুকে পড়ে। এসময় তারা কয়েকজন ছাত্রীকে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা ১০-১২ জন ছাত্রকে তারা বেঁধড়ক মারধর করে।
আরো পড়ুন: বয়সসীমা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধির দাবিতে নীলক্ষেত অবরোধ চাকরি প্রত্যাশীরা
ছাত্রীরা আরো বলেন, যখন ছাত্রলীগ তাদের আন্দোলনে বাঁধা দিতে হামলা করে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আলমগীর কবীর এবং ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক জহির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে প্রক্টর বলেন, 'একটি অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে সেখানে কয়েকজন শিক্ষার্থী যান। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্স যেতে বাধা দিলে একটু হাতাহাতি হয়।'