ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কাঁপছে শাবিপ্রবির আকাশ

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ২১ জানুয়ারি ২০২২
অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কাঁপছে শাবিপ্রবির আকাশ
ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশনে আছে আন্দোলনরত চব্বিশ শিক্ষার্থী

ঘড়ির কাঁটা মিনিট থেকে ঘণ্টায়, ঘণ্টা থেকে দিনে। দিন থেকে রাত, রাত থেকে আবার দিনে পরিণত হচ্ছে। তবুও টনক নড়েনি তাদের। ২৪টা জীবন্ত মানুষ না খেয়ে আছে, সুস্থ মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। দাবি আদায়ের আন্দোলনে অনশন করে যাচ্ছে। জীবন দিতে প্রস্তুত, তবুও দাবি আদায় করতেই হবে। যত সময় যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজানোর ব্যাপ্তিটা কমে আসছে। অনশনের ২১ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন একজন শিক্ষার্থী। যেভাবে অনশনের সময়টা মিনিট থেকে ঘণ্টায় পাড়ি জমাচ্ছে, ঠিক তার বিপরীতে অসুস্থ হওয়ার সময়টা ঘন্টা থেকে মিনিটে পরিণত হচ্ছে। অপেক্ষায় কবে শুনবো বিজয়ের ধ্বনি সেই আশায় বুক বেধে কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছে তারা। আর সেটিই ঘটছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ভিসি পদত্যাগের দাবির আন্দোলনে আমরণ অনশনে আছে আন্দোলনরত চব্বিশ জন শিক্ষার্থী। গত বুধবার দুপুর ২ টা থেকে অনশন শুরু করে তারা। শুক্রবার অনশনের ৪৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। এখনও অনশন ভাঙেনি তারা। 

আরো পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব পরীক্ষা স্থগিত

Advertisement

অনশনের ২১ ঘণ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইবি বিভাগের কাজল দাস নামের অনশনরত এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তার। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সময় যেতে না যেতেই আবার শোনা যায় অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। অসুস্থ হয়ে পড়েন  রায়হান ও মরিয়ম নামের আরো দুইজন শিক্ষার্থী। আর কিছুক্ষণ পরে আবার সেই একই শব্দ। অসুস্থ হয়ে পড়েন রাকিব নামের আরো একজন শিক্ষার্থী। এভাবেই একের পর এক অসুস্থ হন আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কেঁপে উঠে শাবিপ্রবির আকাশ। 

জীবন বাজি রেখে অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জান্নাতুল নাঈম নিশাত বলেন, আমি হাসপাতালে যাব না, আমি তো বলেই এলাম, আমরণ অনশন করতে এসেছি। হাসপাতালে যাব কেন? আন্দোলনে এসেছি না?’

আরো পড়ুন: ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের হামলা কোনো চাট্টিখানি কথা নয়। ভিসির মদদ ছাড়া একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ঢুকতে পারবে না, হামলা তো দূরের কথা। গত রোববার শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের নৃশংস হামলায় ভিসির প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। যেই ভিসি শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশকে দিয়ে হামলা চালিয়েছে সেই ভিসি কখনো শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হতে পারে না। তাই অবিলম্বে ভিসির পদত্যাগ চাই।

অজ্ঞাত ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বলেন, পুলিশকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে আবার শিক্ষার্থীদের উপর মামলা এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে শিক্ষা্থীরা আরো কঠোর হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। বিভিন্ন সময় শতাধিক শিক্ষক আসেন শিক্ষার্থীদর কাছে। শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার কথা, তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ না করলে, তাদের আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ না করলে তারা শিক্ষকদের কোনো কথা শুনতে চায় না।

আরো পড়ুন: ভিসি ফরিদের বক্তব্যে এবার জাবি ছাত্রলীগের প্রতিবাদ

সার্বিক বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছিলাম। তবে কিছু দিনের সময় তাদের কাছে চেয়েছি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চলমান রাখেন। পরে প্রশাসন ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা আরোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন।

তিনি বলেন, সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমরা বিব্রত ও মর্মাহত। এ ঘটনায় আমার যদি কোনো দোষ থাকে, তাতে সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনো ধরনের অন্যায় পেয়ে থাকেন, তাহলে সরকার যে সিদ্ধান্ত দেবে আমি মেনে নিতে রাজি। আমি চাই এ ঘটনার সুষ্ঠু একটা তদন্ত হোক।

আরো পড়ুন: জাবির ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম তদন্তে ইউজিসি, শিক্ষকদের অসন্তোষ

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের ছাত্রীরা। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে ছাত্রলীগ হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। এতে আন্দোলন চড়াও হয়ে ওঠে। পরদিন বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা ও তাদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাত সাড়ে আটটার দিকে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার ঘোষণা দেন ভিসি। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!