ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রাবিতে শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয় রঙ-বেরঙের পাখি

আশিক ইসলাম, রাবি
প্রকাশিত: ১৪:০৪, ৩০ জানুয়ারি ২০২২
রাবিতে শিক্ষার্থীদের ঘুম ভাঙিয়ে দেয় রঙ-বেরঙের পাখি
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি আবাসিক হলে হাজারো শিক্ষার্থীর ঘুম ভেঙে দেয় রঙ-বেরঙের পাখি। ছবি- হুমায়ুন কবির সজিব

উপযুক্ত আবাসন আর খাদ্যের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির প্রাণ রঙ-বেরঙের পাখি। গ্রামের প্রকৃতির মাঝে এখন হয়তো শোনা যাবে না কিচিরমিচির। তবে তা যেনো একেবারেই ভিন্ন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালেই। যেখানে প্রতিদিন বসে পাখির মেলা। সুরে সুরে তাল মিলিয়ে গেয়ে যায় গান। এমনই সব পাখির কোলাহল পাওয়া যাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। যার প্রতিটি আবাসিক হলেই হাজারো শিক্ষার্থীর ঘুম ভেঙে দেয় রঙ-বেরঙের পাখি। এসব পাখি নিয়ে বিস্তারিত।  

দোয়েল: সুরে সুপরিচিত দোয়েল। এটি আমাদের জাতীয় পাখি। এই পাখীরা সর্বদা গাছের ডালে বা মাটিতে লাফিয়ে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। কীট পতঙ্গ, ছোট ছোট শুঁও পোকা এদের প্রধান খাদ্য। খুব সকালে এরা ডাকাডাকি শুরু করে আবাসিক হলে।

আরো পড়ুন: ঘুরেছেন ৬৪ জেলা, এবার বিশ্বভ্রমণে চোখ রাবি শিক্ষার্থীর

Advertisement

শালিক: ভোরে যেসব পাখির কলকাকলিতে শিক্ষার্থীদের মানুষের ঘুম ভাঙে, ভাত শালিক তাদের অন্যতম। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল এবং আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় এদের দেখা যায়। দিনের অবসর সময়ে এরা প্রচুর শব্দ করে ডাকাডাকি করে। এরা গায়ক পাখি নামেও বেশ পরিচিত।

টিয়া: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের গগনশিরিষ গাছে মাঝেমধ্যেই দেখা মিলে টিয়া পাখির। সবুজ রঙা টিয়া বাংলাদেশে প্রচুর পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন: শীতের অপরূপ সাজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

তিলা ঘুঘু: ক্যাম্পাসে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যেসব পাখির সুরেলা কণ্ঠ কানে ভেসে আসে তার মধ্যে অন্যতম হলো তিলা ঘুঘু। এই পাখিটি ক্যাম্পাসের অনেক দেখা যায়। এরা খুব শান্ত প্রকৃতির পাখি।   

মাছরাঙা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পুকুর ও জলাশয়ে মাছরাঙা দেখা যায়। এরা শিকারের আশায় সূর্যকে পেছনে রেখে জলাধারে চুপচাপ বসে থাকে। এরা মাছের দেখা পেলে শূন্যে ডানা ঝাপটিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পরে। মাছ ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরে আবার একই স্থানে এসে বসে। এরপর জ্যান্ত মাছকে গাছের ডালে আছড়ে মেরে গিলে খায়।

আরো পড়ুন: রাবি গবেষকের নতুন ধান, প্রতি হেক্টরে ফলন সাড়ে ৬ টন

বুলবুল: বুলবুল বা বুলবুলি এরা গায়ক পাখি নামে পরিচিত। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ঝোপঝাড়ে এদের প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। এরা বাগান, ক্ষেতখামার ও বনেবাদাড়ে বাস করে। এদের প্রধান খাদ্য হচ্ছে ফল, ফুলের নির্যাস ও পোকামাকড়। অধিকাংশেরই বাসন্তী ডাক মধুর।

সাত ভাই ছাতারে: এই পাখিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নানান নামে পরিচিত। বন ছাতারে, ক্যাচক্যাচিয়া, ঝগড়ুটে পাখি, সাতবইলা বা সাতভায়লা নামে ডাকা হয় এদেরকে। সাধারণত এই পাখিরা একসঙ্গে ছয়-সাতটি দলবেধে ঘুরে বেড়াই। এ দলে ছয় ভাই, আর একটি বোন থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর রহমান মাঠ, ইবলিশ চত্বর, বধ্যভূমিতে এদেরকে দেখা যায়।

আরো পড়ুন: ২৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী খেলা!

কাঠঠোকরা: ক্যাম্পাসে চলতে পথে হঠাৎ কানে ভেসে আসে ঠকঠক শব্দ। বিশেষ ধরনের একটি পাখি প্রতিদিন আট হাজার থেকে বারো হাজার বার কাঠে ঠোকর দেয়। এরা কাঠঠোকরা পাখি নামে পরিচিত। গাছের বাকলের খাঁজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা পোকামাকড় এদের খাবার। গাছের গায়ে গর্ত করে এরা বাসাও তৈরি করে।

চড়ুই: এরা বাংলাদেশের অতি পরিচিত পাখি। ক্যাম্পাসের সর্বত্রই এদের দেখা যায়। খুব সকালেই শুরু হয় এদের কিচিরমিচির শব্দ। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আবাসিক হলে এদের দেখা যায়। 

আরো পড়ুন: ধার করা ক্যামেরায় বানানো সিনেমাটি জিতলো কান চলচ্চিত্র পুরস্কার

কালো ফিঙে: গাঁও গ্রামের পরিচিত পাখি কালো ফিঙে। তবে রাবি ক্যাম্পাসে এদেরকে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। এরা খুব উপকারী পাখি। এরা এদের চেয়ে আকারে বড় পাখিকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই এদেরকে দূর্বল পাখিদের রক্ষকও বলা হয়।

হলদে পাখি: হলদে পাখি দেশের গ্রামঞ্চলে সর্বত্রই দেখা যায়। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলে এদের বাস বেশি। এরা কুটুম পাখি নামেও পরিচিত। ক্যাম্পাসে গাছপালাযুক্ত পত্রাচ্ছাদিত গাছে এদেরকে দেখা যায়।

আরো পড়ুন: হাজারো প্রেম-বিচ্ছেদের সাক্ষী প্যারিস রোড

পেঁচা: গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডের বিশাল শিরীষ গাছের মগডালে প্রতিনিয়ত দেখা মেলে পেঁচার। ক্যাম্পাসে কয়েক প্রজাতির পেঁচা দেখা যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!