ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রংতুলিতে ভিন্ন সাজে ঢাবির টিএসসি 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি 
প্রকাশিত: ১৬:০৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২
রংতুলিতে ভিন্ন সাজে ঢাবির টিএসসি 
পুরো টিএসসিকে ‘ফোক আর্টে’র মাধ্যমে রং করে সাজিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিকচর্চার মূল কেন্দ্র ‘টিএসসির চায়ের দোকানগুলো’। শিক্ষার্থীদের কোলাহল, ক্লাস শেষে ক্লান্তি আর বিষাদ কাটাতে আড্ডা জমানোর এক পরম জায়গা এসব চায়ের দোকান। সেই দোকানগুলোতে বসে যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে আড্ডা দেয় সেটিকে চিন্তা করে পুরো টিএসসিকে ‘ফোক আর্টে’র মাধ্যমে রং করে সাজিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। 

চায়ের টঙগুলোতে রিকশা পেইন্টের মাধ্যমে মুড়িয়ে এক নতুন সাজে সেজেছে পুরো টিএসসি। এই চায়ের টংগুলো রিকশা পেইন্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে মিস ইউনিভার্সে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শিরিন আক্তার শিলা ও তার তিন বন্ধু-সহপাঠী। 

রিকশা পেইন্টের মাধ্যমে মুড়িয়ে এক নতুন সাজে সেজেছে পুরো টিএসসি।

Advertisement

তারা হলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সীমান্ত শাহা, চারুকলার অঙ্কন বিভাগের জেরিন সিন্থি ও তাসমিত আফিয়াত অর্নি। তারা দিন-রাত এটি নিয়ে কাজ করছেন এবং তাদের সাথে কয়েকজন ভালো রিকশা আর্টিস্ট নিয়ে গত তিনদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। 

উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা শিরিন আক্তার শিলা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, আমরা গত চারদিন ধরে এটির উপর কাজ করছি। আজকে সারারাত কাজ করে পুরো টিএসসিতে এই আর্টের কাজ শেষ হয়েছে। দিনে কাজ করলে যেহেতু টিএসসির চা স্টলের মালিক মামাদের ব্যবসায় সমস্যা হবে তাই আমরা প্রতি রাতে কাজ করি। আমরা প্রতি রাত ১১টার পর থেকে কাজ শুরু করে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করি। 

সারারাত কাজ করে পুরো টিএসসিতে এই আর্টের কাজ শেষ করা হয়।

তিনি বলেন, এটা আমাদের প্রথম উদ্যোগ। প্রথমত আমরা এই পেইন্টিংয়ের কাজ টিএসসিতেই করেছি। আমার ইচ্ছা হচ্ছে, আমি সারা বাংলাদেশে যতগুলো চায়ের টঙ রয়েছে সেগুলোকে আমাদের ফোক আর্টের যতগুলোর ফর্ম রয়েছে সেগুলো দিয়ে পেইন্ট করবো। কেননা চায়ের টঙয়ে মানুষ অনেক বেশি আড্ডা দেয়, তাই আমরা যদি এই টঙগুলোতে ফোক আর্ট নিয়ে কাজ করি তাহলে আমাদের কালচারকে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে বা এগুলো দেখতে জানতে আগ্রহী হবে। আমার এই ইচ্ছে থেকেই এই কাজ শুরু করেছি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির চায়ের দোকানে পেইন্ট করার মধ্যদিয়েই। 

কেন এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আইডিয়া এসেছে চায়ের টংয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। আমি এখনও চায়ের টংয়ে বসে আড্ডা দেই, চা খাই। আর টিএসসিতো আমাদের জীবনেরই অংশ। আমার বরাবরই আর্ট-কালচারে দুর্বলতা। 

আইডিয়া এসেছে চায়ের টংয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকেই।

তিনি আরো জানান, আমি যখন মিস ইউনিভার্সে অংশ নিই তখন কস্টিউম ছিলো একটি জামদানি শাড়ি আর একটি রিকশাহুড৷ সেই রিকশাহুডে রিকশা পেইন্ট করা ছিলো। আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোতে দেখি যে তাদের রাস্তার পাশে যেসব দোকান আছে বা যা কিছু আছে সেগুলোতে তাদের আর্ট-কালচার দিয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলে। বাংলাদেশে হয়তো তেমন ভালো রাস্তার পাশে দোকান নেই কিন্তু আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় জায়গা হচ্ছে চায়ের টং। তাই আমি চায়ের টংকে রং করবো বলে সংকল্প করি। যাতে সবাই এই আর্টকে দেখে সবার মাথায় যাতে আমাদের কালচারকে জানবে এবং ঐতিহ্যকে ধারণ করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেডএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!