নিহত ছাত্রীর নাম মোসা. রিক্তা আক্তার (২১)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার জোতপাড়া গ্রামে। স্বামী আব্দুল্লাহ ইসতিয়াক রাব্বির সঙ্গে ধরমপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন রিক্তা। রিক্তার স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের ছাত্র।
উদ্ধারের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) মর্গে রাখা হয়েছে।
.png)
রিক্তার সহপাঠীরা জানান, তারা বিষয়টা জানামাত্র রাতেই রাজশাহী মেডিকেল কলজের মর্গে গিয়েছিলেন। এ সময় তাদের সামনেই পুলিশ রিক্তার স্বামীকে কিছুটা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় রিক্তার স্বামী জানান, কিছুদিন ধরে তার স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে ফেসবুকে ফেইক আইডি থেকে কথা বলত। এ বিষয়টা নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল।
মৃতের স্বামী রাব্বি জানান, শুক্রবার বিকেলেও তাদের কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এ সময় রাগ করে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সন্ধ্যার পরে বাড়ি ফিরে কিছু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। এরপরে রাত ১২টার দিকে ঘুম দেখে উঠে দেখেন, তার স্ত্রী জানালার পাশে দাড়িয়ে আছে। তখন না ঘুমিয়ে জানালার পাশে কি করছে জানতে চেয়ে স্ত্রীর কাছে এগিয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, সে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছে। তখন, তিনি চিৎকার করে নিজেই ফাঁস থেকে তাকে খোলার চেষ্টা করেন। নিজে ফাঁস খুলতে না পেরে তিনি পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়া তার বন্ধুকে ডাকেন। এরপরে ফাস থেকে খুলে সে এবং তার বন্ধু মিলে তার স্ত্রীকে নিয়ে রামেকে যান। রামেকে পৌছানোর পরে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান, আগেই তার স্ত্রী মারা গেছেন।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃতের স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মৃতের ও তার স্বামীর মোবাইল ফোনও নিজেদের কাছে নিয়েছে পুলিশ। বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবেই দেখছেন মৃতের সহপাঠীরা।
এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, মৃতের স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে রেখেছি। মৃতের আত্মীয়-স্বজন আসার পরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।