ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ শিক্ষা ]

আবাসিক হলের খাবার নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা

বিশ্ব খাদ্য দিবস
নাঈম আহমদ শুভ, শাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ১৬ অক্টোবর ২০২২
আবাসিক হলের খাবার নিয়ে শাবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস। ‘কাউকে পশ্চাতে রেখে নয়। ভালো উৎপাদনে উত্তম পুষ্টি, সুরক্ষিত পরিবেশ ও উন্নত জীবন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন করা হয়েছে। মানুষের শারীরিক গঠন কাঠামো পুষ্টিকর খাবারের ওপর নির্ভর করে। সঠিক সময়ে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে মানুষের শরীরের নানা ধরনের রোগ বাসা বাঁধে। বিশেষকরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা হলে থাকে তাদের খাবার নিয়ে নানা সমস্যার কথা শোনা যায়। খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ। হলের খাবার কি রকম হওয়া উচিত ও খাবার সমস্যা দূরীকরণে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন ডেইলি বাংলাদেশের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাঈম আহমদ শুভ।


‘খাবারের মান বাড়াতে প্রয়োজন হল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি’

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং এর নাম শুনলে শিক্ষার্থীদের গা শিউরে ওঠে। শিক্ষার্থীরা ডাইনিংয়ের খাবারের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে। ভালো মানের খাবার না পাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতাসহ নানা জটিলতায় ভোগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং এর খাবারের মান এমন পর্যায়ে নেমেছে যে, খাবারের সময় হলে শিক্ষার্থীরা এটা ভেবে ভয় পায় যে, ‘এখন ডাইনিং এ গিয়ে খেতে হবে’। হ্যাঁ, এটা মানছি যে, মাঝেমধ্যে খাবারের মান উন্নত করার লক্ষ্যে নামমাত্র মিটিং এর ব্যবস্থা করা হয়। তবে তেমন ফলপ্রসূ হয় না। একজন শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সঙ্গে পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এরমধ্যে খাবারের সুব্যবস্থাপনা অন্যতম। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের শিক্ষার্থীরা পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পড়াশোনা করার লক্ষ্যে খাবারের মান বাড়াতে প্রয়োজন হল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি। 

মোহাইমিনুল ইসলাম
দ্বিতীয় বর্ষ, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ


‘সঠিক খাদ্যাভ্যাস সুস্থ থাকার পূর্বশর্ত’

‘সুস্থ দেহে সুন্দর মন’ এটি একটি প্রবাদ বাক্য যা সর্বকালে সত্য বলে প্রমাণিত। আর সুস্থ থাকতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস। সেই কারণে শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পরিপূর্ণ খাবার রোজকার খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। একজন শিক্ষার্থী সারাদিনের ক্লাস এবং টিউশন শেষে যখন হলের ডাইনিং- ক্যান্টিনে মানসম্মত খাবার না পায়, তখন প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা মিটাবে কিভাবে? ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এর প্রভাব পড়ে পরীক্ষার ফলাফলে। বিশ্ব খাদ্য দিবসে একটাই চাওয়া, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সব শিক্ষার্থীর জন্য সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করা হোক।

সাঈদ আহমেদ রিংকু
দ্বিতীয় বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ


‘পুষ্টিহীনতায় ভোগে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়া কাম্য নয়’

হলের খাবারের মান দিনে দিনে এমন অবস্থায় নামছে যে হলের খাবার খেয়ে কোনোমতে খেয়ে বেঁচে থাকা যাবে কিন্তু সুস্থ থাকা দায়। একজন মানুষের সুস্থ থাকার জন্য দৈনিক যে পরিমাণ খাবার দরকার, সেটা হলে গিয়ে খাবারের পরিমাণ দেখলেই বোঝা যাবে। হলের খাবারে পরিমাণ কম ও খাবারের মান নিম্নমানের হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী পুষ্টিহীনতায় ভোগে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নাবান্না হওয়ায় বিভিন্ন অসুখ বিসুখেও শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হয়। রান্নার উপকরণগুলোও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া খাবার পরিবেশনের বাসন গুলোও অনেক সময় অপরিষ্কার থাকে। মানসম্মত খাবারের অভাবে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে গেলে এসবের দায়ভার কে নিবে? পড়াশোনা শিখে উচ্চশিক্ষিত হতে এসে এভাবে পুষ্টিহীনতাসহ আরো নানা রকম রোগে ভোগে কারো ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে এটা কারোরই কাম্য নয়। সঠিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রশাসনের তদারকির মধ্য দিয়ে খাবার ব্যবস্থাপনাসহ আনুষঙ্গিক সমস্যা সমাধান হলে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিহীনতা থেকে মুক্তি পাবে।

মাহামুদা আফরোজ
দ্বিতীয় বর্ষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগ

 

‘পুষ্টিকর খাবার পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ায়’

একজন শিক্ষার্থীর দৈনিক ২৮০০ থেকে ৩০০০ কিলোক্যালোরি খাবার দরকার, সেই তুলনায় যথেষ্ট পুষ্টির অভাব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলের খাবারে। শিক্ষার্থী যদি ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করতে পারেন, তাহলে তার সুস্থ থাকা এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। হলে একজন শিক্ষার্থীর দৈনিক যে পরিমাণ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন তার তুলনায় তাকে পরিমাণে অনেক কম খাবার দেওয়া হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হলের ক্যান্টিনের খাবারের দাম। যার ফলে  অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও পরিমিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।

তৃষ্ণা রায়
দ্বিতীয় বর্ষ, সমাজকর্ম বিভাগ


‘ডাইনিং-ক্যান্টিনে হল কর্তৃপক্ষের নজরদারি রাখতে হবে’

একজন শিক্ষার্থীর দৈনিক যতটুকু পুষ্টির চাহিদা ততটুকু হলের শিক্ষার্থীরা পায় না। দৈনিক পড়াশোনা, অনেকের টিউশনি এইসব মিলিয়ে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর প্রচুর পরিমাণ কিলোক্যালরি শক্তি খরচ হয়, যা হলের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের খাবার থেকে আসছে না। তবুও যেন সংগ্রাম করে চলছে তারা। প্রায়ই দেখা যায়, অনেকে অসুস্থ হয়ে যায়। হল কর্তৃপক্ষের উচিত এইসব ব্যাপারে সবসময় খোঁজখবর রাখা। আমাদের সুস্থ থাকাটা প্রথম বিবেচনায় রেখে অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। নিয়মিত হলের ডাইনিং নজরদারি, প্রয়োজনে ডাইনিং এর দায়িত্বে থাকা লোকদের অপসারণ করে ভালো লোক নিয়োগ দেওয়া। যাতে শিক্ষার্থীরা পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খেয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে। এই হোক আমাদের বিশ্ব খাদ্য দিবসের চাওয়া।

মমিনুল ইসলাম
দ্বিতীয় বর্ষ, জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!