ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রং-তুলির আঁচড়ে সেজেছে ‘স্মৃতির মিনার’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৫৩, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
রং-তুলির আঁচড়ে সেজেছে ‘স্মৃতির মিনার’
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হবে ২১ ফেব্রুয়ারি ক্ষণ। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহর। দিনটির প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন সর্বস্তরের মানুষ। প্রতিবছর এই দিনে প্রথম প্রহরেই শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে। ভাষা শহিদদের স্মরণে এরই মধ্যে প্রস্তুতির কাজও শেষ হয়েছে। রঙ আর আলপনায় সেজেছে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পুরো এলাকা।  

দিবসটি পালনে মাসব্যাপী কাজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজক কমিটি। আয়োজকরা বলছেন, শহিদ মিনারের সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রস্তুত। চার স্তরের নিরাপত্তার মধ্যে পালিত হবে অমর একুশ উদযাপন।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকার দেয়াল বলে ভাষা আন্দোলনের কথা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা যায়, শহিদ মিনারকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। স্তরে স্তরে বিভিন্ন বাহিনীর নজরদারি চলছে। শেষ মুহূর্তের পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। শহিদ মিনার সংলগ্ন রাস্তা আলপনার রাঙানো হয়েছে। আশেপাশের রাস্তার দেয়ালে নতুন রঙ করা হয়েছে। গাছের গুঁড়ি রং করা হয়েছে। এরই মধ্যে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও দেখা গেছে। 

একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রতি বছরই চলে রং-তুলির শিল্পীদের ব্যস্ততা। পাকিস্তানী বর্বর শাসকদের অত্যাচার, নির্যাতন আর বঞ্চনার চিত্র ফুটে উঠে তুলির আঁচরে। শহিদ মিনারের আশপাশের এলাকার দেওয়ালগুলোতে আঁকা হয় বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা বর্ণমালাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার বর্ণমালা।

দেওয়ালগুলোতে আঁকা হয় বাঙালির মাতৃভাষা বাংলা বর্ণমালা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

যে বাংলা ভাষা একদিন পাকিস্তানি শাসকেরা মুছে দিতে চেয়েছিল সে ভাষায় লেখা হয় বর্ণিল দেয়াললিখন। মহান ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন পটভূমি আর বোনের হাতে ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহের দেয়ালচিত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে হানাদারদের দুঃশাসনের কাল। এভাবেই ভাষা আন্দোলনের নানা পটভূমি ফুটে ওঠে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এলাকার দেওয়ালগুলোতে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

রক্তিম বর্ণের রং দিয়ে আঁকা হয়েছে মিনারের মূল বেদি। বিভিন্ন রং দিয়ে আঁকা আলপনায় শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলেছেন বাঙালির রুচিবোধ ও শিল্প সৌন্দর্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূর্ব কোণের রাস্তা থেকে একেবারে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আঁকা হয়েছে আলপনা।

দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!