হ্যাঁ, রমজান মাস এলেই ক্যাম্পাস জুড়ে এমন কথার জোয়ার ওঠে। টিলাবেষ্টিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিবছর এমন দৃশ্য উপলব্ধি করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে প্রায় প্রতিবছর রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহ ক্যাম্পাসে কাটাতে হয় শিক্ষার্থীদের। কারণ, প্রতিবারই রমজান মাসের শুরুতে ক্লাস-পরীক্ষা চলমান থাকে। পরিবার ছাড়া সেহরি-ইফতার একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের আনন্দ দেয়, অন্যদিকে কষ্টও দেয়। বিশেষ করে, রমজানের প্রথম সপ্তাহ হলের বন্ধুবান্ধব, বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে কিংবা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের সঙ্গে ইফতার করতে হয়। ইফতারে তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মধুর মিলনমেলা গড়ে ওঠে। যাকে বলে তারুণ্যের ইফতার।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যা হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা হলের ডাইনিং-ক্যান্টিন কিংবা ভার্সিটি গেইটে জড়ো হয়। ইফতারের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। এর আগেই নির্ধারণ করে নেন ইফতার কার সঙ্গে, কোথায় করতে হবে। বিশেষ করে, ক্যাম্পাসের নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াখ্যাত টিলায়, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, বাস্কেটবল গ্রাউন্ড ও হলের ছাদে শিক্ষার্থীরা ঝাঁকজমকভাবে আয়োজন করেন ইফতার। সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ইফতারের মুহূর্তগুলো। হাসি-আড্ডায় আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। চলে সেলফি তোলার ধুম।
ইফতার সামগ্রী হিসেবে খিচুড়ি, ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজি, আলুর চপ, জিলাপি, কাচ্চি বিরিয়ানি এবং সিলেটের বিখ্যাত ‘আখনি’ ও কিনে আনেন শিক্ষার্থীরা। এসব ইফতারে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করেন। এমনকি অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদেরও মিলনমেলা ঘটে ইফতারের আয়োজনে। যা শিক্ষার্থীদের ইফতারের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ক্যাম্পাসে বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একসঙ্গে ইফতারের আনন্দের কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোবাশ্বির বাঙালি বলেন, পড়াশোনার জন্যই ক্যাম্পাসে আসা। রমজানের প্রথম সপ্তাহ পরিবার ছাড়া ক্যাম্পাসেই পার করতে হয়। স্বভাবতই পরিবার ছাড়া ইফতার সেহরিতে আনন্দ থাকার কথা নয়। কিন্তু পরিবারের অভাব অনেকটা মুছে যায় যখন বন্ধুবান্ধব কিংবা সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে ইফতারের মুহূর্তগুলো অতিবাহিত করি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সবাই খোলা আকাশের নিচে একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দ মুখে বলে বোঝানো কঠিন। ক্যাম্পাস জীবনের ইফতার আজীবন মনে থাকবে।
অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে ইফতারে অংশ নেন বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তীর্থ দাস। তিনি বলেন, রমজান এলেই যেন আনন্দের এক ধুম পড়ে যায়। সবাই মিলেমিশে সেহেরি করা, রোজা রাখা, ইফতার করার মাধ্যমে সেই আনন্দের পদচিহ্ন অঙ্কিত হয়। ব্যক্তিগতভাবে, আমি প্রতিদিনই ক্যাম্পাসের কোথাও না কোথাও ইফতার আয়োজনে অংশগ্রহণ করি। সেসব ইফতার আয়োজনে আমার সব থেকে ভালো লাগার বিষয়টি হচ্ছে, সবাই ইফতারের ঠিক আগে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের ক্ষুধাতৃষ্ণাকে উৎসর্গ করে তৈরিকৃত খাবারটি সম্মুখে নিয়ে বসে থাকে। তাছাড়া, বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে একত্রে বসে খাবার ভাগাভাগির মাধ্যমে প্রচণ্ড আনন্দ উপভোগ করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পিকার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর মেহরাব বলেন, এবারের রমজানে জাঁকজমকভাবে প্রতিটি ক্লাব, জেলা সমিতি ও বিভাগ উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে তাদের কাছের মানুষদের নিয়ে। পরিবার থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসের ইফতার যেন পারিবারিক অনুভূতি দেয়। এগুলোর পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সবার ঈদ আনন্দময় হোক।