ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

রাতের আঁধারে চবি শিক্ষার্থীকে মুখ বেঁধে তুলে নিল কারা?

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ৯ নভেম্বর ২০২৪
রাতের আঁধারে চবি শিক্ষার্থীকে মুখ বেঁধে তুলে নিল কারা?
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঐ শিক্ষার্থী ছাত্রদলকর্মী বলে দাবি দলটির নেতাদের।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের সামনে মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। এতে ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নুরুল করিম সাদ। তিনি চবির ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।

Advertisement

জানা গেছে, ভুক্তভোগী নুরুল করিম সাদ চবি ছাত্রলীগের উপ-গ্রুপ বিজয়ের কর্মী হিসেবে পরিচিত। আগে রাজনৈতিক পরিচয়ে চবির সোহরাওয়ার্দী হলে থাকলেও বর্তমানে তিনি শহিদ আব্দুর রব হলে বৈধ আসন নিয়ে থাকেন।

এদিকে, ছাত্রদলকর্মী হিসেবে নয়, একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তার পাশে দাঁড়ানোর কথা জানান ছাত্রদল নেতারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দফতরের সামনে থেকে মুখ বেঁধে ঐ শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিম তিনটি ভাগে ভাগ হয়ে খুঁজতে শুরু করে। পরে জীববিজ্ঞান অনুষদের পেছনে নির্জন এলাকায় তাকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমরা ঐ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যাই। পরে এক্স-রে করার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের মূল ফটক আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, সাদ ছাত্রদলের কর্মী হলেও তার বড় পরিচয় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে তুলে নিয়ে মারধর করাটা অন্যায়। সে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শুরু থেকেই ছিল। সেটার প্রমাণও আমাদের কাছে আছে। সিসি ক্যামেরা দেখে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি আমরা।

চবি মেডিকেলের চিকিৎসক কে এম আতাউল গনি বলেন, ঐ ছাত্রকে রাত ১০টার দিকে আনা হয়েছিল। ডান পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মাথা বা বুকে কোনো আঘাত ছিল না, তিনি নিজেই বলেছিলেন। পরে পায়ের এক্স-রে করার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

চিকিৎসা শেষে নুরুল করিম সাদকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!