ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ বিনোদন ]

কে এই ‘ভাইরাল’ রানু মন্ডল? (ভিডিও)

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:১১, ৩১ আগস্ট ২০১৯
কে এই ‘ভাইরাল’ রানু মন্ডল? (ভিডিও)
রানু মণ্ডল

চলতি বছরের ২০ জুলাই রানাঘাট স্টেশনে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামের এক তরুণ নিজের মোবাইলে রেকর্ড করেন লতা কণ্ঠী রানু মণ্ডল নামের এক ভবঘুরে মহিলার গান। এরপরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে নিমিষেই ভাইরাল হয়ে যায়। রানু রাতারাতি তারকা বনে চলে যায়। প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসে হিমেশ রেশমিয়ার চকচকে স্টুডিওতে পৌঁছে গিয়েছেন রানু মণ্ডল।

তবে সবাই তাকে রানু মণ্ডল নামে চিনলেও তার পুরো নাম রানু মারিয়া মণ্ডল, থাকেন রানাঘাট স্টেশনের পাশে এক বাড়িতে। লতা মঙ্গেশকরের ‘প্যায়ার কা নগমা’ গানটি গেয়ে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ার সুরসম্রাজ্ঞী হয়ে উঠেছেন তিনি। এর আগে স্টেশনে গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাই ছিল তার পেশা।

কে এই রানু মণ্ডল?
রানুর বেড়ে উঠা রানাঘাটের স্টেশন চত্বরে। সেখানে ভিক্ষাবৃত্তি করেই দিন পার করতেন তিনি। তার এক মেয়ে। নাম স্বাতী রায়। মা ভিক্ষাবৃত্তি করার কারণে গত ৪ বছর ধরে মেয়ের চেহারা দেখার সৌভাগ্য হয়নি রানুর। যার কারণে শেষের বছরগুলো বুকে কষ্ট নিয়েই দিন পার করেছেন তিনি। আর রানাঘাট স্টেশনই ছিলো নিজের মেয়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনার জায়গা। কখন ফিরে আসবে তার মেয়ে?

Advertisement

অবশেষে সেই অপেক্ষার প্রহর যেন ফুরালো, ফিরে এসেছে রানুর মেয়ে স্বাতী, আবারো মেয়ের কাছ থেকে শুনেছেন ‘মা’ ডাক। 

মাত্র ১৯ বছর বয়সে বাবলু মণ্ডল নামে এক প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় রানু মণ্ডলের। বিয়ের পর জন্ম হয় রানুর একমাত্র মেয়ে স্বাতীর।

বিয়ের পর স্বামী বাবলু মণ্ডলের সঙ্গে মুম্বইতে হাজির হন রানু। সেখানেই তিনি রানু মণ্ডল হিসেবে পরিচিত হয়ে বাণিজ্যনগরীর বিভিন্ন বারে গান গাইতে শুরু করেন। যদিও বারে গান গাওয়া, তার স্বামীর অপছন্দ ছিল। ফলে রোজগার হলেও খুব কম সময়ের মধ্যেই সেখানে গান গাওয়া বন্ধ করে দেন রানু মণ্ডল।

স্বামী বাবলু মণ্ডলের মৃত্যুর পর মুম্বাই থেকে রানাঘাটে ফিরে আসেন রানু। রানাঘাট স্টেশনে বসেই এরপর গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। রোজগারের জন্য স্টেশনে বসে গান গাওয়াকেই বেছে নেন ৫৬ বছর বয়সী এই মহিলা।

যেভাবে রানুকে চেনে পুরো বিশ্ব
রানু সবসময়ই রেল স্টেশনে মেয়ের আশায় বসে থাকতেন, গাইতেন আর ভিক্ষা করতেন। একদিন একইভাবে গেয়ে যাচ্ছিলেন রানু। ওই সময় লতা মঙ্গেশকরের গান ‘প্যার কা নাগমা’ গাইলে অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামের এক যুবক তার গান শুনে মুগ্ধ হয়ে রেকর্ড শুরু করেন। শুধু রেকর্ডই করেননি বরং তিনি গানটি আপলোড করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর থেকে রাতারাতি তারকা বনে যান রানু।

এদিকে স্টেশন শিল্পীর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রানুর গান শুনে ফোন আসতে শুরু করে সুদূর দিল্লি-মুম্বাই থেকেও। ইতোমধ্যে মুম্বাইয়ের এক টেলিভিশন চ্যানেল ফোন করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে রানুকে। দিল্লির একটি সমাজসেবী সংস্থা থেকেও যোগাযোগ করা হয়েছে তার সঙ্গে।

তবে রানুর ফোন নেই। তাই একটু বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। আর এই কাজে এগিয়ে এসেছেন তার গান রেকর্ড করা সেই যুবক অতীন্দ্র। বাইরের রাজ্যগুলো থেকে তার মোবাইলেই ফোন আসছে রানুর কাছে।

রানুর গানটি ভাইরাল হওয়ার পর রীতিমত বলিউডের প্লে-ব্যাক গায়িকা বনে যান তিনি। সেই সুবাধে রানু এবার খ্যাতনামা সংগীতকার হিমেশ রেশামিয়ার তত্বাবধানে রেকর্ড করে ফেললেন এক নতুন ছবির গান।

‘হ্যাপি হার্ডি অ্যান্ড হির’ নামে হিমেশ প্রযোজিত এক ছবির জন্য গান গেয়েছেন রানু মারিয়া মণ্ডল। যেই ছবি আপাতত মুক্তির অপেক্ষায়।

তবে চমকপ্রদ খবর হল, তাতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সালমান খান। অভিনয় করছেন প্রযোজক হিমেশ নিজেও। ছবির সংগীতের দায়িত্বও হিমেশ রেশামিয়ার কাঁধেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রানুর গান শুনেই বেশ মনে ধরেছিল হিমেশের। তাকে দিয়েই নিজের ছবির ‘তেরি মেরি কাহানি’ গান গাওয়ালেন হিমেশ। 

এই প্রসঙ্গে সংগীত পরিচালক ও গায়ক হিমেশ বলেন, সালমান ভাইয়ের বাবা সেলিম আংকেল আমাকে একবার বলেছিলেন জীবনে প্রতিভাবান মানুষের সঙ্গে আলাপ হলে তার পাশে দাঁড়াতে। যথাসম্ভব সাধ্যমতো তাকে সাহায্য করতে। আমিও সেই চেষ্টাই করেছি।

এরপর রানাঘাটের স্টেশন চত্বর থেকে সোজা হিমেশের রেকর্ডিং স্টুডিওতে রানু। অবাক হলেও এই ঘটনাই সত্যি। মঙ্গলবার থেকে এও শোনা যাচ্ছে, আর স্টেশনে থাকতে হবে না রানুকে, কারণ সালমান নাকি নিজেই এবার তাকে ৫৫ লাখ টাকার বাড়ি উপহার দিয়েছেন।

এদিকে, সেপ্টেম্বর মাস থেকেই শুরু হবে রানু মণ্ডলে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক এর শুটিং। পরিচালক নবাগত হৃষীকেশ মণ্ডল। তবে এই পরিকল্পনা যিনি করেছেন তিনি ক্যাকটাস ব্যান্ডের গায়ক সিদ্ধার্থ রায় ওরফে সিধু। ছবির সঙ্গীত পরিচালকও তিনি। আর ছবিতে একাধিক গান গাইবেন রানু নিজেই।

একজন ভবঘুরে থেকে রীতিমতো লাইমলাইটে রানু মণ্ডল। বিধাতা প্রতিটি মানুষের মধ্যে বিশেষ কিছু দিয়ে থাকেন, শুধু সেটা প্রকাশের জন্য সুযোগ আর সময়ের প্রয়োজন। যেটা রানু মণ্ডলের জীবনে এসেছে বলে মনে করেন সোশ্যাল অডিয়েন্সরা।

রানু মণ্ডলের ভিডিওটি:-

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!