গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সংগীতাঙ্গনের এই প্রাণ পুরুষ চলে গেছেন না ফেরার দেশে। কিন্তু সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরের মানুষ এখনো তার মৃত্যুর শোক যেন কাটিয়ে উঠতে পারছেন না। সব কিছুতে তারা এখন শুধু বাপ্পী লাহিড়ীর পরিবারের স্মৃতি খুঁজে বেড়াচ্ছেন।
তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার এই লাহিড়ী মোহনপুরের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠেন বাপ্পী লাহিড়ীর বাবা অপরেশ লাহিড়ী। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় ভারতে চলে যায় লাহিড়ী পরিবার। সেখানেই জন্ম হয় বাপ্পী লাহিড়ীর। জমিদার লাহিড়ী পরিবারের সেই সময়ের কিছু স্মৃতি চিহ্ন আজো রয়ে গেছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। মানুষের হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে বাপ্পী লাহিড়ীর পরিবারের স্মৃতির নানা কথা। বাপ্পী লাহিড়ীকে নিয়ে আজো গর্ব করেন এই অঞ্চলের মানুষ। বাপ্পী লাহিড়ীর মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সবস্তরের মানুষ।
.png)
লাহিড়ী মোহনপুরের রাজমান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক জুয়েল রানা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, অকেশ লাহিড়ী যাকে বর্তমান প্রজন্ম বাপ্পী লাহিড়ী নামে চেনেন, তিনি ৮ বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে পৈতৃক নিবাস উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুরে আসেন। এরপর তিনি দেশে আসেননি। বাপ্পী লাহিড়ীর দাদার প্রতিষ্ঠিত মোহনপুর কে এম ইনস্টিটিউটের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ২০১৪ সালে তাকে আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। তিনি তার দাদার হাতেগড়া প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আসারও কথা ছিল। কিন্তু তিনি ভারতে নির্বাচনী প্রার্থী হওয়ার কারণে সময় করে আসতে পারেননি।
এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত এই গায়কের কর্মকাণ্ড ও তার নাম আগামী প্রজন্মকে জানাতে পৈতৃক ভিটে লাহিড়ী মোহনপুরে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবিও জানান এই প্রভাষক।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নাজমা আক্তার নীলা জানান, বাপ্পী লাহিড়ীর পূর্বপুরুষেরা তাদের নিজস্ব ৬০ বিঘা জমিতে লাহিড়ী মোহনপুর রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করেন। এছাড়া লাহিড়ী মোহনপুর কে এম ইনস্টিটিউট, স্থানীয় খেলার মাঠ, লাহিড়ী মোহনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মোহনপুর মিল্কভিটা, লাহিড়ী মোহনপুর বাজার তাদের জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বাপ্পী লাহিড়ীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক বাবু জানান, এশিয়া মহাদেশের একজন বিখ্যাত গায়ক ছিলেন বাপ্পী লাহিড়ী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাপ্পী লাহিড়ীর গান মনে রাখবে। প্রাণবন্ত এই শিল্পীর না থাকার কথা অনুভব করবে সবাই।
তিনি আরো জানান, এমন মহান ব্যক্তির পৈতৃক নিবাস উল্লাপাড়ার লাহিড়ী মোহনপুর হওয়ায় তিনি নিজেকে ধন্য মনে করেন।