তিনি সব্জি কাটতেন বটি দিয়ে। তরকারির খোসা ছাড়াতেন খালি হাতে নখ দিয়ে। আর খাবার পরিবেশন করা হতো কলাপাতায় করে। তার ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখেছেন লাখ লাখ মানুষ। ২০১৬ সালে 'কান্ট্রি ফুডস' নামে তার ইউটিউব চ্যানেলটির যাত্রা শুরু হয়। সাবস্ক্রাইবার দশ লাখের বেশি। এটি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ইউটিউবে তার যে কয়েকশো রান্নার ভিডিও আছে। ইউটিউব চ্যানেলটি আসলে চালাতেন মাস্তানাম্মা নাতি এবং নাতির বন্ধু-বান্ধব।
মাস্তানাম্মার জন্ম অন্ধ্র প্রদেশে। ২০১৭ সালে তিনি বিবিসিকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। তখন তিনি জানিয়েছিলেন তার বয়স ১০৬ বছর। তার ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, তিনি গ্রামে খোলা মাঠে বসে রান্না করছেন। তার রান্নার সাজ-সরঞ্জাম খুব কম।
.png)

ইউটিউবে সাধারণত যে ধরণের রান্নার রেসিপি পাওয়া যায়, সেখান থেকে একেবারেই ব্যতিক্রম। একেবারে নিজস্ব স্টাইলের প্রথাগত ভারতীয় রান্না দিয়েই আসলে তিনি তারকায় পরিণত হয়েছিলেন। মাছ রান্না করতে পছন্দ করতেন, কারণ পাশের নদী থেকে একেবারে তাজা মাছ পাওয়া যেত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাকে বর্ণনা করতেন 'দন্তবিহিন হাসিমুখের দাদীমা' বলে। তরমুজের ভেতর মুরগী রান্নার যে রেসিপির জন্য তিনি বিখ্যাত, সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। তার অন্যান্য জনপ্রিয় রান্নার মধ্যে আছে বেগুনের তরকারি এবং কাতলা মাছের তরকারি।
`My 105 years Grandma's Village Style Fish Recipe’
ইউটিউব কন্টেন্টে দেখা যায় সনাতন পদ্ধতিতে দারুণভাবে কাতল মাছ পরিষ্কার করছেন সবার প্রিয় দাদীমা। তার মসলা প্রস্তুত করার পদ্ধতিও সনাতনী। এক কোটির বেশি ভিউ রয়েছে ভিডিওটিতে। সব শেষে তার হাসি সবার হৃদয় কেড়ে নিতো!

২০১৮সালের ডিসেম্বরে মারা যান মাস্তানাম্মা। এরপর অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার রেসিপির প্রশংসা করেছেন, তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।