প্রবীণদের নীরব হাহাকার ও মানবিক সংকট-ডিমেনশিয়া
বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সংকটগুলির মধ্যে একটি হল আলঝাইমার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৫ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ার শিকার। ডিমেনশিয়ার প্রধান কারণ আসলে আলঝাইমার। আমরা আশা করছি ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। ডিমেনশিয়া সম্পর্কিত মনোভাব বিষয়ক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ৬২% স্বাস্থ্যকর্মী ভুলবশত ডিমেনশিয়াকে বার্ধক্যের একটি স্বাভাবিক অংশ বলে মনে করতেন; ৩৫% পরিচর্যাকারী ডিমেনশিয়ার রোগনির্ণয় গোপন করেছিলেন এবং প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মনে করতেন যে ডিমেনশিয়ার জন্য কিছুই করার নেই।
আলঝেইমার রোগটি হলো স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং বিভ্রান্তিজনিত একটি গুরুতর মস্তিষ্কের ব্যাধি। সময়মতো রোগটি নির্ণয় ও চিকিৎসা করা না হলে- এটি শেখার, চিন্তা করার, যুক্তি দেওয়ার, মনে রাখার, সমস্যা সমাধানের, সিদ্ধান্ত গ্রহণের এবং মনোযোগ দেওয়ার মতো মানসিক ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করতে পারে। এই গুরুতর অসুস্থতাটি কেবল রোগীকেই নয়, তাদের পরিবার ও বন্ধুদেরও প্রভাবিত করে।
.png)
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ দেশব্যাপী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ষাটোর্ধ্ব জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ মানুষ ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন। বর্তমানে দেশে এ রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ, যা ২০৫০ সাল নাগাদ তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছে।

- আজ ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আলঝাইমার দিবস। ২০২৬ সালের বিশ্ব অ্যালঝাইমার্স দিবসের প্রতিপাদ্য : “যত জলদি জানবেন, তত বেশি করতে পারবেন: ডিমেনশিয়া রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” (ইংরেজি: “The Earlier You Know, The More You Can Do: A Dementia Diagnosis Matters”)।
বিশ্বব্যাপী আলঝাইমার রোগ এবং অন্যান্য ধরণের ডিমেনশিয়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণের একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। আজকের দিনটি আলঝাইমার সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করার এবং আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে এমন নীতিগত সংস্কার প্রচারের একটি সুযোগ।
প্রতি বছর পুরো সেপ্টেম্বর মাসকে 'আলঝেইমার মাস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্বজুড়ে মানুষ, বিভিন্ন আলঝেইমার সমিতি ও সংস্থা আলঝেইমার এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমর্থনে একত্রিত হয়। তারা এই গুরুতর মানসিক ব্যাধির সতর্কতামূলক লক্ষণ ও উপসর্গ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করে, পাশাপাশি আক্রান্তদের সামাজিক ও আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে।
জার্মান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যালয়িস অ্যালঝাইমার ১৯০০–এর দশকের শুরুতে এক নারীর দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিভ্রংশ ও বিভ্রান্তির কেস পর্যবেক্ষণ করে তার মৃত্যুর পর মস্তিষ্ক পরীক্ষা করেন এবং সেখানে বিশেষ ধরণের প্রোটিন জমা ও পরিবর্তন দেখতে পান। সেখান থেকেই অ্যালঝাইমার রোগের বৈজ্ঞানিক বর্ণনা শুরু হয়। পরবর্তী গবেষণায় মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক প্রোটিন প্ল্যাক ও ট্যাংলস–এর সঙ্গে এ রোগের সম্পর্ক পরিষ্কার হয়েছে।
ডিমেনশিয়া নিয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বাড়াতে ও কলঙ্ক কমাতে ১৯৯০–এর দশকে আন্তর্জাতিক সংগঠন Alzheimer’s Disease International (ADI) বিশ্ব অ্যালঝাইমার দিবস চালু করে। পরবর্তীতে অনেক দেশে পুরো সেপ্টেম্বর মাসকে বিশ্ব অ্যালঝাইমার মাস হিসেবে পালন করা শুরু হয়, যেখানে ২১ সেপ্টেম্বর মূল দিবস হিসেবে গুরুত্ব পায়। প্রতি বছর “Know Dementia, Know Alzheimer’s” বা “Let’s Talk About Dementia”–এর মতো থিম দিয়ে সহজ ভাষায় প্রচারণা চালানো হয়, যাতে মানুষ খোলামেলা কথা বলতে ও দ্রুত চিকিৎসা নিতে উৎসাহ পায়।
ডিমেনশিয়া সম্পর্কে এখনো অনেক ভুল ধারণা ও কুসংস্কার আছে। অনেকেই মনে করেন, বেশি ভুলে যাওয়া বা একা কিছুই সামলাতে না পারা বার্ধক্যের “স্বাভাবিক” অংশ; আসলে তা নয়।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির মস্তিষ্কের কোষ ক্রমশ নষ্ট হতে থাকে, ফলে তিনি প্রায়ই একই কথা বারবার জিজ্ঞেস করেন, পরিচিত জায়গায় পথ হারিয়ে ফেলেন, জিনিসপত্র নিরাপদে রাখার জায়গা ভুলে যান, হঠাৎ রাগান্বিত, সন্দেহপ্রবণ বা চুপচাপ হয়ে পড়েন, টাকা–পয়সা বা গৃহস্থালির হিসাব–নিকাশ সামলাতে পারেন না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোসল, খাওয়া, কাপড় পরা, টয়লেট ব্যবহারসহ নিত্যদিনের কাজে অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন বাড়ে।
বর্তমানে এমন কোনো ওষুধ নেই যা অ্যালঝাইমার রোগকে পুরোপুরি সারিয়ে তোলে; তবে সময়মতো সঠিক রোগনির্ণয় হলে অনেক কিছু করা সম্ভব—যেমন অন্য কোনো কারণ (ডিপ্রেশন, থাইরয়েড সমস্যা, ভিটামিনের অভাব, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) আছে কি না দেখা, প্রয়োজনে উপসর্গ–নিয়ন্ত্রণে কিছু ওষুধ শুরু করা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগী ও পরিবারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সেবাযত্নের পরিকল্পনা করা। সহানুভূতিশীল ব্যবহার, সহজ ভাষায় কথা বলা, নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা, নিরাপদ বাড়ির পরিবেশ গড়ে তোলা ও মানসিক সমর্থন দেওয়া—এসবই জীবনমান অনেকটাই ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

বাংলাদেশে বিশেষায়িত ডে-কেয়ার বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবাকেন্দ্রের তীব্র ঘাটতি থাকায় ডিমেনশিয়ার পুরো যত্নভার গিয়ে পড়ে পরিবারের কাঁধে, যার প্রধান শিকার হন নারী সদস্যরা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কেয়ারগিভার বার্নআউট’ বা সেবাদানকারীর শারীরিক ও মানসিক চরম অবসাদ। দিনের পর দিন রোগীর বিভ্রান্তিকর আচরণ সামলাতে গিয়ে স্বজনেরা অপরাধবোধ ও বিষাদের অতলে তলিয়ে যান।
আলঝাইমার রোগ আসলে কী?
আলঝাইমারস একটি অবক্ষয়জনিত স্নায়বিক রোগ যা স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা এবং আচরণকে ধ্বংস করে দেয়। এটি ডিমেনশিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ, যা 60-80% ক্ষেত্রে ঘটে। আলঝাইমারে আক্রান্তদের বেশিরভাগই বয়স্ক, যদিও এটি 65 বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে দেখা যায়।
তাই এটি মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লেক এবং টাউ ট্যাঙ্গেলের সম্পূর্ণ সমষ্টি নিয়ে গঠিত, যা স্নায়ু যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করে এবং মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু ঘটায়। দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের সংকোচন এবং সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন জ্ঞানীয় কার্যকারিতার গুরুতর হ্রাস, যা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য দৈনন্দিন কাজকর্মকে কঠিন করে তোলে।
আলঝাইমার রোগের লক্ষণ এবং পর্যায়
প্রি-ক্লিনিক্যাল পর্যায়: এতে কোনো লক্ষণীয় উপসর্গ থাকে না, কিন্তু উন্নত ইমেজিং কৌশল ব্যবহার করে মস্তিষ্কের পরিবর্তন শনাক্ত করা যায়।
মৃদু জ্ঞানীয় বৈকল্য: স্মৃতিশক্তি ও চিন্তন দক্ষতাসহ জ্ঞানীয় ক্ষমতার সামান্য কিন্তু লক্ষণীয় ও পরিমাপযোগ্য হ্রাস।
মৃদু আলঝেইমার রোগ: স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিভ্রান্তি, ভাষা ব্যবহারে অসুবিধা, মেজাজ ও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পাদনে অসুবিধা।
মৃদু আলঝেইমার রোগ: অধিক স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বিভ্রান্তি, পরিবার ও বন্ধুদের চিনতে সমস্যা, ভাষা ও চিন্তা প্রক্রিয়াকরণে অসুবিধা এবং আচরণগত সমস্যা।
গুরুতর আলঝেইমার রোগ: স্পষ্টভাবে কথা বলতে অক্ষমতা, সার্বক্ষণিক পরিচর্যার প্রয়োজন, শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস এবং অবশেষে, জ্ঞান হারানো।

বিশ্ব আলঝাইমার দিবসের তাৎপর্য
সচেতনতা ও জ্ঞানার্জন: এটি বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার প্রধান কারণ, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। এর ব্যাপকতা থাকা সত্ত্বেও, এই রোগ, এর লক্ষণ এবং রোগীর উপর এর প্রভাব সম্পর্কে অনেকেরই এখনও সঠিক ধারণা নেই। বিশ্ব আলঝেইমার দিবস এই অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করার গুরুত্বের উপর জোর দেয়।
কলঙ্ক মোকাবেলা: আলঝেইমার্স এবং অন্যান্য স্মৃতিভ্রংশ রোগের সাথে প্রায়শই ভুল ধারণা এবং কলঙ্ক জড়িয়ে থাকে। এই ভুল ধারণাগুলো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা এবং বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবসের লক্ষ্য হলো শিক্ষা ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা, যা কলঙ্ক কমাতে এবং জীবিত রোগী ও তাদের পরিচর্যাকারীদের সহায়তা করার জন্য অপরিহার্য।
গবেষণাকে সমর্থন: এই দিনটির আরেকটি উদ্দেশ্য হলো রোগ নিরাময় এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরা। বিশ্ব আলঝেইমার দিবস চলমান গবেষণাকে তুলে ধরে এবং অনুদান ও সমর্থনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে ব্যাপক অবদান রাখে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উৎসাহদান: কোনো সীমানা বা বাধা আলঝেইমার রোগের ভয়াবহতাকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, এবং তাই, এর মোকাবিলায় একটি সমন্বিত বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। বিশ্ব আলঝেইমার দিবস আন্তর্জাতিক সংলাপকে উৎসাহিত করে, যেখানে দেশগুলো এই রোগটিকে আরও কার্যকরভাবে মোকাবেলা করার জন্য জ্ঞান, সম্পদ এবং কৌশল বিনিময় করতে পারে।
পরিচর্যাকারীদের ক্ষমতায়ন: আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনে পরিচর্যাকারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের এই কাজ তাঁদেরকে প্রচুর মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক চাপের মধ্যে রাখে। বিশ্ব আলঝেইমার দিবস তাঁদের এই অবদানকে স্বীকৃতি দেয়, তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে, দায়িত্বগুলো সহজে পালনের উপায় বাতলে দেয় এবং আত্ম-যত্নের জন্য সময় বের করতে সাহায্য করে।

বিশ্ব আলঝেইমার দিবস সম্পর্কিত তথ্য
* আলঝেইমার্স হলো ডিমেনশিয়ার অন্যতম সাধারণ একটি ধরন, যা বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার মোট ঘটনার ৬০-৮০ শতাংশের জন্য দায়ী।
* অনুমান করা হয় যে, বিশ্বজুড়ে আলঝেইমার্সে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২.৪ কোটি।
* এডিআই-এর মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১৩.৫ কোটি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হবেন।
* বিশ্বে ফিনল্যান্ডেই আলঝেইমার্সের সংখ্যা সর্বাধিক, যেখানে প্রতি ১ লক্ষ মানুষের মধ্যে ৫৫ জন এই রোগে আক্রান্ত।
* এটা স্পষ্ট যে আলঝেইমার রোগীদের অধিকাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, কিন্তু * এমনটা জরুরি নয় যে বার্ধক্যই আলঝেইমারের একমাত্র ঝুঁকির কারণ।
* দেখা গেছে যে, আলঝেইমার রোগীদের ৫ শতাংশ ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে আর্লি-অনসেট আলঝেইমার্সে আক্রান্ত হন।
* আলঝেইমার্সের কোনো নিরাময় নেই এবং এটি একটি ক্রমবর্ধমান রোগ, কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা এর লক্ষণগুলো কমাতে সাহায্য করতে পারে।
* প্রথম আলঝেইমার মাস প্রচারাভিযান ২০১২ সালে শুরু হয়েছিল। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বিশ্বব্যাপী প্রতি তিনজনের মধ্যে গড়ে দুজনই তাদের নিজ নিজ দেশে আলঝেইমার রোগ এবং এর সাথে সম্পর্কিত স্মৃতিভ্রংশ সম্পর্কে খুব কম জানেন।
* প্রতি বছর আলঝেইমার'স ডিজিজ ইন্টারন্যাশনাল (এডিআই) ডিমেনশিয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করে 'ওয়ার্ল্ড আলঝেইমার রিপোর্টস' প্রকাশ করে।
ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ও প্রভাবিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ
এপ্রসঙ্গে আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়- একটি মানবিক ও সমানুভূতির সমাজ গঠনে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ও প্রভাবিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডিমেনশিয়া কেয়ার ব্যবস্থার নীতিগত পরিবর্তনের জন্য ৩টি মূল লক্ষ্য অর্জনে আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
- বিশেষায়িত ও সমন্বিত ডিমেনশিয়া কেয়ার: স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সকল স্তরে বিশেষায়িত ও সুসমন্বিত ডিমেনশিয়া সেবা নিশ্চিত করা।
- ব্যক্তিভিত্তিক সার্বক্ষণিক সহায়তা: ডিমেনশিয়া প্রাথমিক শনাক্তকরণ (Diagnosis) থেকে শুরু করে জীবনের শেষ মুহূর্ত (End-of-life) পর্যন্ত ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত ও ব্যক্তিগত সেবা প্রদান।
- পরিবার ও অবৈতনিক কেয়ারগিভারদের বিশেষ সহায়তা: যে সকল স্বজন ও কেয়ারগিভার বিনাবেতনে দিনরাত ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ, মানসিক ও সামাজিকভাবে বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা।
আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর আহ্বান- ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সচেতনতা বাড়াই। 'যত দ্রুত জানবেন, তত বেশি কিছু করার সুযোগ পাবেন।' বিশ্ব আলঝেইমার্স দিবসে ডিমেনশিয়া বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে এবং সেবাভিত্তিক মানবিক সমাজ গঠনে আলঝেইমার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর পাশে থাকুন।
আলঝেইমার সম্পর্কিত সেবা তথ্যে জন্য যোগাযোগ :
আলঝেইমার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ASB)
হাউস-৪২, রোড-৪এ, সেক্টর-১৭/ডি, উত্তরা (পূর্ব), ঢাকা।
(মেট্রোরেল উত্তরা দক্ষিণ স্টেশনের পাশে)
📞 হেল্পলাইন: 01720-498197