গণবিয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, মোটা সবুজ শালে সম্পূর্ণ চেহারা ঢেকে বিয়ের আসরে হাজির হন বিয়ের কনেরা। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ও বাহারি কেক নিয়ে হাজির হন বিয়ের পাত্ররা।
দরিদ্রপীড়িত আফগানিস্তানে বিয়ে একটি ব্যয়বহুল ব্যাপার। ঐতিহ্যগতভাবে বিয়ের জন্য বিপুল যৌতুক দিতে হয়। এছাড়া ব্যয়বহুল উপহার ও জমকালো আয়োজনে খরচ হয় অনেক অর্থ।
.png)
সোমবার ৭০ দম্পতির বিয়ের অনুষ্ঠানটি আফগানিস্তানে সম্প্রতি দেখা সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। দেশটিতে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি তালেবান সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আরো পড়ুন>> পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট
বিয়ের একজন পাত্র এবাদুল্লাহ নিয়াজাই বলেন, আজ কোনো যুবক ব্যয়বহুল বিয়ের ভার বহন করতে চান না। তিনি জানান যে, বিয়ের জন্য আট বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।
২২ বছর বয়সী সংখ্যালঘু হাজারা সম্প্রদায়ের বাসিন্দা বর এসমতুল্লাহ বাশারদোস্ত জানান, 'আমার কোন কাজ নেই. আমাদের অর্থের অভাব ছিল। তাই আমরা একটি গণবিবাহের অনুষ্ঠানে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
ঐতিহ্যবাহী আফগান টুপি পরিহিত বাশারদোস্ত বলেন, তার বিবাহের দিনটি সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন।
আরো পড়ুন>> খোঁজ মিলল প্রাচীন ‘অভিশপ্ত’ সমাধির, রক্ত-লাল অক্ষরে লেখা ‘খুলবেন না!’
তালেবান ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনের পরিমাণ কমে এসেছে। সরকার বিবাহগুলো ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে নাচ, গানসহ নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ করেছে। গণবিয়ের অনুষ্ঠানের পুরো সময়ে বর ও কনেদের আলাদা রাখা হয়।
অনুষ্ঠানস্থলে বেশকিছু তালেবান যোদ্ধা অস্ত্র নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। আলাদা আলাদা বসতে দেয়া হয় নারী ও পুরুষ অতিথিদের। অনুষ্ঠানে একমাত্র বিনোদন ছিল কবিতা আবৃত্তি ও বক্তৃতা।
বিয়ের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কনেদের কথা বলার অনুমতি ছিল না। কনেরা মোটা শালের নিচে খাস্তা সাদা গাউন পরে। তবে তাদের ছবি তোলার অনুমতি দেয়া হয়।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪