ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে ২০ জনের মৃত্যু, আহত ৩০০
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৩ শতাধিক।
সোমবার (২১ নভেম্বর) আঘাত হানা ভূমিকম্পে প্রদেশটির শত শত বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম জাভা প্রদেশের সিয়ানজুর অঞ্চলের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। তবে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই।
.png)
পশ্চিম জাভার সরকারি কর্মকর্তা হারমান সুহারম্যান স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল মেট্রো টিভিকে জানান, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এছাড়া আকস্মিক এই কম্পনে আরও ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
তবে ভূমিকম্পে ধসে পড়া ঘরবাড়ির নিচে এখনও অনেকে চাপা পড়েছেন। যে কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন হারমান। ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাভার এই কর্মকর্তা।
আরো পড়ুন>> চীনে বাড়ছে করোনা সংক্রামণ, ৬ মাসে প্রথম মৃত্যু
এদিকে দেশটির বৃহত্তর জাকার্তা অঞ্চলেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দক্ষিণ জাকার্তার বাসিন্দা ভিদি প্রিমধানিয়া বলেন, ‘কম্পনটি খুব শক্তিশালী ছিল। আমার সহকর্মীরা এবং আমি জরুরি সিঁড়ি ব্যবহার করে নবম তলায় অবস্থিত আমাদের অফিস থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’
তার অফিস ভবনের দেয়াল এবং ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত প্রত্যক্ষ করে। ২০০৪ সালে সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প ও এরপরের সুনামিতে এই অঞ্চলজুড়ে দুই লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে ইন্দোনেশিয়ায় মারা যায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ।
২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়। গত বছর সুলাওসি দ্বীপে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে চার হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা