ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট এলে করণীয় জানাল রাশিয়া
নাৎসি দমন ও ন্যাটো থেকে নিজেদের সার্বভৌম সুরক্ষার অজুহাতে প্রায় ১০ মাস ধরে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। তবে কয়েক মাসে দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে মস্কো। এসব হামলা রুখতে ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর সেটি এলে করণীয় ঘোষণা করেছে রাশিয়া।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার আক্রমণ রুখতে ইউক্রেনকে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর খবর সামনে আসার পরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানায় রাশিয়া।
ক্রেমলিন বলছে, ইউক্রেনে ধেয়ে যাওয়া রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যারেজ আটকাতে দেশটিতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া হলে তা হবে রুশ হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
.png)
মূলত পূর্ব ইউরোপের এ দেশটিতে দফায় দফায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এ দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে বিকল হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা প্রদানের বিরুদ্ধে ন্যাটোকে সতর্ক করেছেন এবং সম্ভবত মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপকে উত্তেজনার আরো বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচনা করবে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা হচ্ছে না। মূলত বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণে যুদ্ধ চলছে এবং বুধবার যুদ্ধের গোলা কিয়েভেও পৌঁছেছে। এছাড়া রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনজুড়ে বিদ্যুৎ ও পানি অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মস্কো।
চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া তার প্রতিবেশী দেশটিতে আক্রমণের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। রাশিয়ার হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে অনেক শহর।
রাশিয়ার এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউক্রেন তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে বারবার আবেদন জানায়। মূলত রাশিয়াকে রুখতে ইউক্রেন যেসব সামরিক সহায়তা চায় তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও রয়েছে।
দেশটির দাবি, রুশ হামলার ফলে লাখ লাখ মানুষ শীতকালে বিদ্যুৎ বা তাপ ছাড়া থাকতে বাধ্য হচ্ছে। বুধবার ইউক্রেন বলেছে, তাদের বাহিনী কিয়েভ অভিমুখে ধেয়ে আসা ১৩টি রাশিয়ান ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
এদিকে, ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস বলেছে, প্রস্তাবিত প্যাট্রিয়েট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থানান্তর উস্কানিমূলক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
রুশ দূতাবাস তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেছে, এমনকি প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা প্রদান না করলেও সাবেক এ সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের সংঘাতের গভীর থেকে গভীরে ঢুকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাসের দাবি, ইউক্রেনীয় সংঘাত দীর্ঘায়িত ও উত্তেজনা আরো বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী।