গাজায় ব্যাপক ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৫৫
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রাতের আঁধারে চালানো বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া একদিনে অন্তত ৫৮ জনসহ ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে বন্দী করেছে ইসরায়েল। রোববার দিবাগত রাত থেকে এই হামলা এখনো চলমান রয়েছে। পশ্চিম তীরের মসজিদে প্রথমে হামলা চালায় তারা।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এই ব্যাপক হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। একরাতের হামলায় ৩০ টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকারি সংবাদসংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী অন্তত ৫৮ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে। প্রধানত রামাল্লা, হেবরন এবং জেনিন এলাকা থেকে বেসামরিকদের বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীর থেকে ১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
.png)
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারি বলেছেন, সীমান্তের আশপাশে থাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ঝুঁকি কমাতে এই হামলা পরিচালিত হয়। তিনি গাজার ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও দক্ষিণে সরে যেতে বলেছেন। বিশেষ করে যারা গাজা শহরে বসবাস করছেন তাদের সতর্ক করেন তিনি। আরো তীব্রভাবে গাজা আক্রমণের হুশিয়ারি দিয়ে গাজার পশ্চিম তীরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার পশ্চিম তীরে আরও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। অধিকৃত ওই ভূখণ্ডে চালানো হামলার সময় জেনিনের একটি মসজিদে বোমাবর্ষণ করা হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ওই মসজিদকে ‘সন্ত্রাসীদের কমান্ড সেন্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এই হামলা চালায়।
এদিকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার খান ইউনিসে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা অনুসারে, গাজা উপত্যকার দক্ষিণে অবস্থিত খান ইউনিসের জালাল স্ট্রিটের রিও ক্যাফেতে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ ফিলিস্তিনি দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত খান ইউনিসে আশ্রয় নিয়েছেন। আর সেখানেই এই হামলা হলো।