ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

আদালতে মুখোমুখি ট্রাম্প ও স্টর্মি ড্যানিয়েলস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:০৫, ৮ মে ২০২৪
আদালতে মুখোমুখি ট্রাম্প ও স্টর্মি ড্যানিয়েলস
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মধ্যকার যৌন সম্পর্ক এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছে। এ নিয়ে এত দিন তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে কথা বললেও প্রথমবারের মতো দু’জন আদালতে মুখোমুখি হয়েছেন। ট্রাম্পের উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন স্টর্মি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার (৭ মে) নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতে উপস্থিত স্টর্মির পরনে ছিল কালো রঙের ঢিলেঢালা পোশাক। তার চুল ছিল পেছন থেকে বাঁধা। আদালতে অবস্থানকালে বেশির ভাগ সময় তিনি ট্রাম্পের দিকে তাকাননি।

আদালতে দাঁড়িয়ে স্টর্মি যতটা সময় কথা বলেছেন, তার বেশির ভাগটাই ছিল ট্রাম্পের সঙ্গে তার যৌন কেলেঙ্কারির বিষয়ে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, ২০০৬ সালে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে তার যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পরে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে মুখ না খুলতে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল স্টর্মিকে। আর ব্যবসায়িক রেকর্ডে এ তথ্য গোপন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Advertisement

ব্যবসায়িক তথ্য নিয়ে জালিয়াতি করার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৩৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে তাকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার অর্থ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এসব অভিযোগ আনা আনা হয়।

ট্রাম্প নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেছেন, স্টর্মির সঙ্গে তার কোনো যৌন সম্পর্ক হয়নি। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, স্টর্মি যা বলে বেড়াচ্ছিলেন তা থেকে থামাতে তার (ট্রাম্পের) সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন তাকে (স্টর্মি) অর্থ দিয়েছিলেন।

ঘুষ গ্রহণ করার কারণে তাকে যে কোনো সময় আদালতে হাজির করা হতে পারে এই ধারণা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সব নাটকীয়তার জবাব মিললো মঙ্গলবার আদালতে তার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে।

আদালতের শুনানিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এই কেলেঙ্কারির ঘটনার মুহুর্তগুলো বর্ণনা করেছেন। যদিও তখন ট্রাম্পের আইনজীবী বিষয়টিকে ভুল বলে দাবি করেছেন। এই শুনানির সময় বিচারপতি হুয়ান মের্চান প্রসিকিউটরদের এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য না চাওয়ার জন্য সর্তক করেন।

দিনের শুরুতে ট্রাম্পের আইনজীবীরা ২০০৬ সালে স্টর্মির কথিত যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে কী প্রশ্ন করা যেতে পারে সে বিষয়ে বিচারপতি মের্চানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় প্রসিকিউটর বলেন, স্টর্মিকে অর্থ দেওয়া হয়েছিলো কিংবা সেটার উদ্দেশ্য কী ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন করা দরকার। স্টর্মি ট্রাম্পের সঙ্গে তার এই কথিত যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনাটি নিয়ে এবারই প্রথম আদালতে কথা বলেননি। এর আগেও এ বিষয়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং টেলিভিশনে কথা বলেছেন।

দিনের শুরুতে আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর তাকে অনেকটা বিচলিত মনে হচ্ছিল। তিনি দ্রুত গতিতে কথা বলছিলেন। তখন আদালত তাকে ধীর স্থির হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলার জন্য অনুরোধ জানান। এই শুনানিতে প্রসিকিউটরা এমন কিছু প্রশ্ন করছিলেন যার কারণে তিনি কিছুটা বিব্রত হয়েছেন। তখন বিচারক এ বিষয়ে আইনজীবীদের সর্তক করেন।

এ সময় স্টর্মি আদালতে ২০০৬ সালের সেই ঘটনার বর্ণনা করে বলেন, তখন ট্রাম্পের সঙ্গে একটি ডিনারে যোগ দিতে অনুরোধ পেয়েছিলেন তিনি। আদালতকে তিনি বলেন, প্রথমে ট্রাম্পের সাথে ডিনারে যোগ দিতে চাননি। কিন্তু ট্রাম্পের এক সহযোগী তাকে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছিল।

এরপর তিনি ট্রাম্পের স্যুটে ডিনারের সেই দিনের বর্ণনা দেন। ট্রাম্পের আইনজীবীরা স্টর্মিকে জেরা করার আগে প্রসিকিউটররা একাধিকবার আপত্তি তোলেন। তারা বলেন স্টর্মির স্বাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। এটাকে একটি পক্ষপাতমূলক আচরণ বলেও বর্ণনা করেন তার আইনজীবীরা।

এ কারণে এই শুনানিতে স্টর্মিকে কয়েকবার থামানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তখন বিচারপতি মের্চান বলেন, স্বাক্ষীকে নিয়ন্ত্রণ করা একটু কঠিন কাজ। তবে ঘটনা সংক্ষেপে বলার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ঘটনাগুলো যে এত বিশদভাবে বলা হচ্ছে, তা অপ্রয়োজনীয়। যদিও আদালতে শুনানির পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি মনে করেন বিচার প্রক্রিয়া ভালোভাবে চলছে।

সূত্র: বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!